News

সিইসির পদত্যাগ দাবির মধ্যেই ভারতে নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা আন্দোলনের মধ্যেই নতুন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। রাজস্থান ক্যাডারের ২০১০ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা প্রকাশ রাজপুরোহিতকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সাবেক ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাতে ভারতের কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দপ্তর নিয়োগসংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, প্রকাশ রাজপুরোহিতকে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিয়োগসংক্রান্ত কমিটি। ২০৩০ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জয় কুমার। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত আগস্টে তাকে কমিশনের কাজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছরের ২৪ জুন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে কমিশনের নথিতে তার সই ছিল।

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে নতুন এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সঞ্জয় কুমার কমিশনের ভোটার তালিকা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার থেকে ডেপুটেশনে আসা সীমা খন্না কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান হিসেবে ভোটার তালিকাসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন।

কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমা খন্নার ভূমিকা এবং কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন সান্ধু। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে থাকা সঞ্জয় কুমারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি ছিল তাদের।

এদিকে দ্য হিন্দু নির্বাচন কমিশনের সূত্রের বরাতে জানায়, সঞ্জয় কুমার দায়িত্বে থাকাকালে সীমা খন্নার ফাইলগুলো তার মাধ্যমেই কমিশনারদের কাছে পাঠানো হতো। তবে সীমা পদোন্নতি পাওয়ার পর এ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়। ওই সময় জ্যেষ্ঠ ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা জারি করেন। এতে সীমার ফাইল সরাসরি নির্বাচন কমিশনারদের কাছে পাঠানোর কথা বলা হয়।

তবে দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, ওই নির্দেশিকা কার্যকর হয়নি। সঞ্জয় কুমার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পরও তার বিভাগের ফাইল মণীশ গর্গের মাধ্যমে পাঠানো হতো। কমিশনে ‘লিঙ্ক অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সঞ্জয়ের অনুপস্থিতিতে তার বিভাগের কাজও মণীশের ওপর বর্তায়। সূত্র: আনন্দবাজার।

source: Rajneete

Back to top button