News

বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং প্রতিবাদকারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রয় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ চলে।

এতে মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আশুগঞ্জ টোল প্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয় মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশুগঞ্জের বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। সেখানে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এবং আশুগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তবে মানববন্ধনের পর বালু উত্তোলনকারী পক্ষের লোকজন প্রতিবাদকারীদের হামলার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে শনিবার মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি দেন তাঁরা।

অবরোধের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে কসবা থেকে কাজী পরিবহনের বাসে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বিশ্বরোড পার হয়ে সোহাগপুর ব্রিজের আগে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকে আছেন। তার ভাষায়, “হাজার হাজার মানুষ কষ্ট করছে।”

সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের যাত্রী কাউছার বলেন, “আমার ঢাকাতে ৩টার সময় মিটিং। কিন্তু এখানেই ১টা বেজে গেছে। কতক্ষণ লাগবে জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “কত রোগী, শিশু নিয়ে মানুষ কষ্ট করছে।”

আশুগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, “যারা মানববন্ধন ও অবরোধ করছেন তাদের মূল লোকেরা সামনে আসছেন না। সামনের সারির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করছি।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমরা যানচলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা তিনটার দিকে অবরোধকারীরা সড়ক ছেড়ে গেলে যান চলাচল শুরু হয়। তবে এখনও যানবাহন ধীরগতিতে চলছে।

source: Rajneete

Back to top button