তাইওয়ানের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণে প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান শি জিনপিংয়ের

তাইওয়ানের সঙ্গে ‘পুনঃএকত্রীকরণ’-এর লক্ষ্য অর্জনে প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চীনের জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে বুধবার দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
ভাষণে শি তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা এবং এ বিষয়ে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন। একই সঙ্গে তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শি বলেন, দুই পাড়ের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর ভাষণে তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শত শত অতিথির উপস্থিতিতে ভাষণ দেন শি।
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে চীন। দ্বীপটি বর্তমানে স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হলেও বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে এর সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্য ঘোষণা করে আসছে। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রাখার কথা জানিয়েছে চীন।
তাইওয়ান ইস্যুতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও চীনের আলোচনা হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় শি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে ‘বিচক্ষণতা’ প্রদর্শনেরও অনুরোধ করেন।
তাইওয়ানের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রও সংগ্রহ করে থাকে। তবে তাইওয়ানের জন্য বড় অঙ্কের একটি অস্ত্র কেনার চুক্তি ওয়াশিংটন স্থগিত রাখায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়। ট্রাম্প সে সময় চীনের সঙ্গে আলোচনায় অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিকে দর-কষাকষির একটি হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর কমিউনিস্ট বাহিনীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরাজিত জাতীয়তাবাদী কুওমিনতাং বাহিনী ও তাদের সমর্থকেরা পরে তাইওয়ানে চলে যায়। এরপর থেকেই চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া ভাষণে শি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, চীন বর্তমানে ‘জটিল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি। এ অবস্থায় দেশের উন্নয়নের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে অটল থাকার কথা জানান শি। পরিবর্তন ও অস্থিরতায় জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বে আরও বেশি স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
source: Asia Post







