News

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে এবার মধ্যস্থতায় কাতার, কূটনীতিতে সমাধান চান গুতেরেসও

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে গতি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সর্বশেষ সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই প্রচেষ্টায় সক্রিয় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে কাতার। একই সময়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির পথেই ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির খবরে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আবারও বৈঠক করেছেন।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে তেহরানের দেওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়নের উপায় এবং মতপার্থক্য কমানোর জন্য নতুন কিছু ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব ধারণা কাতার মার্কিন পক্ষের কাছে পৌঁছে দেবে। তেহরান এখন ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের প্রস্তাবের মূল বিষয় হরমুজ প্রণালি। তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করা সম্ভব। এর বিনিময়ে ইরান চায় যুদ্ধ বন্ধ, ইরানি সম্পদে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হোক।

তবে ট্রাম্প গত সপ্তাহে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলাদাভাবে যোগাযোগ করেছে। ফলে প্রকাশ্য কঠোর অবস্থানের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

এদিকে আরাগচি সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গুতেরেস ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। এর আগে তিনি হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা পুনর্প্রতিষ্ঠা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্রুত আলোচনা শুরু করে অমীমাংসিত বিষয়গুলো কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সংঘাতের প্রভাব অবশ্য কূটনীতির বাইরেও বাড়ছে। হরমুজ ঘিরে অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে ফের চাপ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৬ ডলারের ওপরে উঠেছে। হরমুজ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলাচল করায় যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পরও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন ধারণা ওয়াশিংটনে পৌঁছানো এবং গুতেরেসের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান— দুটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি আলোচনার টেবিলেও এখন সমান্তরাল তৎপরতা চলছে। তবে হরমুজ, নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় পার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

source: Rajneete

Back to top button