মামলা কেন হয়নি, এই প্রশ্নটা আপনাকে আমি করার কথা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সালমান মুক্তাদির

নিজের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, নিজের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা কেন হয়নি- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সেই প্রশ্ন তোলার কথা ছিল তারই।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালমান মুক্তাদির এসব কথা বলেন।
সালমান বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটা ভিডিও দেখলাম, সেখানে তিনি আমার স্টোরি (ঘটনার বর্ণনা) নিয়ে কথা বলছেন। আর আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে উনি আমাকে বলেছেন আমি একজন ভদ্রলোক। যদি পুরো বাংলাদেশে আমাকে অভদ্র হিসেবে চিনে, উনার একটা কথায় অনেক আত্মবিশ্বাস পেলাম। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলছেন। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই আমি উনাকে জবাব দিতে পারতেছি।’
এরপর সালমান বলেন, ‘আমি আপনার একটা জিনিস খুব পরিষ্কারভাবে আপনার কাছে উপস্থাপন করতে চাই। আপনি এটা বুঝতে পারবেন কি না জানি না। পুরো বাংলাদেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের নিরাপত্তা কিন্তু আপনার হাতে। বৃদ্ধ থেকে শিশু, নারী থেকে পুরুষ- দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আপনি বলেছেন মামলা দায়ের করা হয়নি। আপনি খেয়াল করছেন, আপনি যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার প্রত্যেকটা থানা, প্রত্যেকটা কর্তৃপক্ষ, প্রত্যেকটা প্রশাসন আপনার এক কল, এক বোতামের অধীনে। আপনি জানেনও না যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপনার কাছে হালনাগাদ তথ্যটা নাই। আপনি কতটুকু বিচ্ছিন্ন আপনার দেশের নাগরিকদের সঙ্গে, আপনার যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেটার সঙ্গে।’
মামলা দায়েরে দেরি হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সালমান বলেন, ‘আমি যে গতকালকে ৪টা পর্যন্ত এতগুলো মানুষ নিয়ে আপনার থানাতে বসেছিলাম। ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে গত ৪টা পর্যন্ত আমি ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরত আসলাম। যেখানে আমার মাথা ঠিক থাকার কথা না। তখনও এসে আজকে দুপুর পর্যন্ত মামলা করা হয় নাই। যতক্ষণ না বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ল এবং আপনার বক্তব্য এলো। এর আগ পর্যন্ত মামলা আসলেও কেন দায়ের করা হয়নি? এই প্রশ্নটা আমার আপনার কাছে থাকার কথা। দেশবাসীর কাছেও আপনাকেই উত্তর দিতে হবে।’
স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির প্রসঙ্গ কেন এসেছে- এমন প্রশ্নের জবাবও দেন সালমান। তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির কথা কেন বললাম? চাঁদাবাজির কথা কেন বললাম? আপনি যেরকম মুচকি হাসি দেন, এই মুচকি হাসি এখন আমার দিতে ইচ্ছা করতেছে। দেখেন, আমারও হাসি। আপনারও হাসি। আমরা একরকম অসহায়। আপনিও কিছু করতে পারতেছেন না। আমিও কিন্তু কিছু করতে পারতেছি না।’
সরকারে থাকা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে সেটির দায়িত্ব সরকারের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালমান বলেন, ‘এই দেশের ক্ষমতাধীন সরকার এখন কে? বিএনপি। সেই সরকারের সঙ্গে এখন যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যার পুরো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা- যারা বলছে যে নির্বাচনের পরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই দায়িত্ব কার নেওয়ার কথা? আপনার।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারব না যে বিএনপি সরকারের আমলে ওরা স্বীকার করতেছে। মানুষের থেকে শুনতেছি, মারামারি হচ্ছে। আমার নিজের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে হবে, সংযম বজায় রাখতে হবে, এরপর আমার বক্তব্য ঠিক রাখতে হবে। আমি বিএনপিকে কোনো কথা বলতে পারবো না, আঙুল তুলতে পারবো না।’
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় তদন্ত করে বের করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা ছিল নিরাপত্তা নিয়ে। এখানে ভূমি দখল ছিল, চাঁদাবাজি ছিল, বিএনপির লোক ছিল, আওয়ামী লীগের লোক ছিল, ওই দখল যে করছে তার লোক ছিল, যাকে দখল করা হচ্ছে তার লোক ছিল- এসব আমার জানার কথা নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে নিজের স্টুডিও ভাঙচুরের বিষয়টিকে ছোট করে দেখানোর অভিযোগও করেন সালমান।
তিনি বলেন, ‘আপনি নিজেই বললেন যে আমি বড়ভাবে কথা বলছি। আপনি তো তাহলে নিজেই বলে দিলেন যে কোনো একটা সামরিক বাহিনীর লোক এখানে জড়িত। আপনার তো তাহলে তদন্ত হয়ে গেছে। তারপর আপনি কী করলেন? আপনি এসে সংবাদ সম্মেলনে কোনো উত্তর দিলেন না, কোনো ব্যবস্থা নিলেন না, এমন কোনো কাজ করলেন না যেখানে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আশ্বাস পেতে পারে। বরঞ্চ আপনি বলে দিলেন সালমান মুক্তাদির বলেছেন, ভদ্রলোক হ্যান বলেছেন, তেন বলেছেন- ঢালাওভাবে চাঁদাবাজ বলেছেন। তাহলে আমার কী করার কথা? আমি কি ধন্যবাদ দেওয়ার কথা আপনাকে? আমি তো ধন্যবাদ দিয়েছি।’
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাদের সঙ্গে বসেননি বলে জানান।
সালমান বলেন, ‘আমাকে এতগুলো মানুষ ফোন দিয়েছে, এত রাজনৈতিক দল থেকে। আমি চাইলে ওদের সঙ্গে গিয়ে এখন বসতে পারতাম। আমি যাচ্ছি না, কারণ আমি বাংলাদেশের মানুষের ভরসা ভাঙতে চাই না। আমি এখানে রাজনৈতিক একটা ইস্যু হতে চাই না। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, একেকটা সংবাদমাধ্যম একেক রাজনৈতিক দলের অধীনে, তারা তাদের মতো সংবাদ ছড়াচ্ছে।’
নিজের ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে বসে আপনার কাছে বলছি, আমার কিছু লাগবে না। আমি টাকা-পয়সা চাই না। আমার স্টুডিও বানিয়ে দিতে হবে না। আমি কারও কাছ থেকে ভিক্ষা চাইব না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি সত্যিই কিছু করতে চান, বাংলাদেশের জন্য কিছু করুন। আমার মাধ্যমে যদি আমাকে নিরাপত্তা দিতে না পারেন, আমার সমস্যা নেই। সত্যি কথা হলো, আমি এটা সহ্য করে চলে গেলাম। আপনি কিছু করতে পারেন নাই। তার জন্য আপনি জবাবদিহির মধ্যে থাকবেন।’
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও রয়েছে দাবি করে সালমান বলেন, ‘পুরো ফুটেজটা একটা সার্ভারে জমা হয়। সার্ভারটা আপনারা দেখছেন, ইতোমধ্যে প্রত্যেকটা ক্যামেরা ভেঙে সার্ভারসহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটাই হয়। এছাড়া যদি ফুটেজ দেখতে চান যে কত মানুষ ছিল, ওই ধরনের ফুটেজ আছে। বিভিন্ন ফোনের ফুটেজ আছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইলে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন বলেও জানান সালমান।
নিজের স্টুডিও পুনরায় তৈরি করার সক্ষমতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পুরো ঘটনা থেকে আমি কিছু চাই না। আমার মাধ্যমে যদি আপনারা কোনো রকমের নিরাপত্তা মানুষের জন্য নিশ্চিত করতে না পারেন, আমার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে সেটা আমার ক্ষতি। আমি প্রত্যেকটা টাকা কামাই ফেলব। আমি প্রত্যেকটা স্টোরি চাইলে আবার বানিয়ে ফেলতে পারব।’
সবশেষে ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে সালমান বলেন, ‘আপনার প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে এরকম একটা কিছু হলো? আপনি কি বুঝতেছেন যে কতটুকু নিচে নেমে গেল যে বিএনপি সরকারের চোখের সামনে তার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসনে এই ঘটনা ঘটছে। পাঁচ মিনিট হেঁটে ক্যান্টনমেন্টের সামনে। আপনি কি বুঝতেছেন যে আপনাকে কেন আঙুল তোলা হইছে? বুঝেন নাই মনে হয়।’
source: Asia Post







