News

ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে ভিয়েতনামের যে শহর

বিশ্বের অনেক শহরের মতো রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। সবশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, শহরটির বাতাসের মান সহনীয়। আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার স্কোর ৬২।

এই স্কোর অনুযায়ী, বায়ুর মান সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৪০তম।

একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৫৯ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি। এ ছাড়া, ১৫৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর, ১৫৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ভারতের দিল্লি, দিল্লির সমান ১৫৬ স্কোর নিয়ে একই অবস্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও পঞ্চম অবস্থানে থাকা ইরাকের বাগদাদের স্কোর ১৫২।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এ তালিকা প্রকাশ করে থাকে। প্রতিমুহূর্তের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটুকু নির্মল বা দূষিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। আর তাদের কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, তা জানিয়ে থাকে।

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর।

১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এটা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

source: Asia Post

Back to top button