News

নেপালে ভূমিধস-বন্যা: দুর্গত এলাকা ৩ মাসের জন্য ‘দুর্যোগকবলিত’ ঘোষণা

নেপালে ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে তিন মাসের জন্য ‘দুর্যোগকবলিত অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ভোটেকোশি নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব এলাকায় দুর্গতদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হিমালয়ান টাইমসের খবরে বলা হয়, বুধবার রাজধানী কাঠমান্ডুর সিংহ দরবারে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের প্রতি শোক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

নেপাল সরকারের মুখপাত্র এবং শিক্ষা ও ক্রীড়ামন্ত্রী সস্মিত পোখরেল জানান, আহতদের বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে অবিলম্বে উদ্ধার এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে নেপালের সেনাবাহিনী, বেসরকারি হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহারেরও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়টিকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় দুর্যোগ কমিটিগুলোকে বন্যাদুর্গতদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত এবং দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটির পূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যায় আপনজন হারানো পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি ও ভৌত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে।

মৃত্যু ১৬০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ দেড় হাজার

নেপালের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্রোতে ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জনপদ।

বুধবারের এই ঘটনায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিকসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবারও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

নেপালের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন, ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে গিয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, দুর্যোগের সময় রেকর্ড হওয়া ৪ দশমিক ৪ মাত্রার যে ভূমিকম্পের কথা প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, সেটি আসলে ভূমিকম্প ছিল না। হিমবাহের পাথর ও বরফ ধসে পড়া এবং ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকে সৃষ্ট ভূকম্পনজনিত শক্তির কারণেই ওই কম্পন রেকর্ড হয়েছিল।

source: Rajneete

Back to top button