News

ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যু/উচ্চ আদালতে আসামির ফাঁসির রায় প্রত্যাশা শিশু আছিয়ার পরিবারের

হাসপাতালে প্রায় আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে টিকে উঠতে পারেনি শিশুটি। পরিবারকে কাঁদিয়ে বিদায় নেয় আট বছর বয়সি আছিয়া। মাগুরার এই শিশুটির চলে যাওয়ার ঘটনাক্রম নাড়িয়ে দেয় গোটা দেশ। আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। আছিয়ার বাড়িয়ে সমবেদনা জানাতে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছে–এমন অভিযোগে মামলা করে পরিবার। সেই মামলার রায়ও হয় নিম্ন আদালতে। রায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের ডেথ রেফরেন্স (নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন বা বহাল রাখার বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া) যায় উচ্চ আদলতে।

মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন ও আপিলের ওপর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। শিশুটির পরিবারের প্রত্যাশা–উচ্চ আদালতে আসামির ফাঁসির রায় দেওয়া হবে।

আছিয়ার মৃত্যুর আট দিন

গত বছরের (২০২৫) ছয় মার্চ মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রাম থেকে অচেতন অবস্থায় আছিয়াকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন শিশুটি বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আছিয়ার পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়।

অবস্থা ভালো না দেখে মাগুরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশুটিকে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে থেকে একইদিন সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

দুই দিন পর আট মার্চ তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। এরপর ১৩ মার্চ শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় শিশুটির। ওইদিন সন্ধ্যায়ই তার মরদেহ দাফনের জন্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে সরাসরি মাগুরায় নেওয়া হয়।

দেশজুড়ে উত্তাল অবস্থা

শিশুটির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু। শিশুটিকে ধর্ষণে অভিযুক্ত তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় এলাকাবাসী। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ। থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এলাকায়।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে শহরের নতুন বাজার ব্রিজের মুখে আটকে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা স্লোগান দিতে থাকেন ‘আমাদের এলাকায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’।

স্থানীয়রা বলেন, ওই এলাকায় অতীতে এমন ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনা তাদের অসম্মানিত করেছে। এখানে ধর্ষকের কোনো ঠাঁই হবে না।

শিশুটির মৃত্যুর একদিন পর ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় মাগুরা সদর উপজেলায় মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা দোষীদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার দাবি তোলেন।

মামলা, রায় ও পরিবারের প্রত্যাশা

শিশুটির মা গত বছরের আট মার্চ মাগুরা সদর থানায় চার জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলায় শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে আসামি করা হয়। শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে ২০২৫ সালের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

সে রায়ে এই মামলার অন্য তিন আসামি শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে।

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আসামি হিটু শেখের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

আছিয়া মা আয়েশা বেগম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘হাইকোর্ট আমার মেয়ের হত্যাকারীর মামলার রায় দেবে। মাগুরার আদালত তার খুনির ফাঁসি দিয়েছিল। হাইকোর্টে তার ফাঁসির রায় দিলে আমার আত্মা শান্তি পাবে।’

source: Asia Post

Back to top button