News

রংপুরে চার খুন/আসামির শার্ট ঘিরে বিতর্ক, পুলিশ ও স্বজনদের পাল্টাপাল্টি দাবি

রংপুর মহানগরীতে এক পরিবারের চার সদস্যকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামির পরনের শার্ট ঘিরে বিতর্ক জোরালো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধার্থ দাস নামে ওই আসামির স্বজন ও পুলিশ পাল্টাপাল্টি দাবি তুলে বক্তব্য দিয়েছে।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীতে এক পরিবারের চারজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিদ্ধার্থ দাসের পরনের শার্ট ও রংপুর মহনগর পুলিশের উপ-কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তীর শার্টের হুবহু মিল নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে সোমবার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস বলেন, শনিবার রাতে গণপতির বাড়িতে পুলিশসহ অনেক লোক জড়ো হন। ভোররাতে পুলিশ আমার বাড়িতে এসে সিদ্ধার্থের খোঁজ করে। আমি ওকে চাচার বাড়ি থেকে ঘুম থেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিই। তখন তার গায়ে একটি গেঞ্জি ছিল। পরে পুলিশ তখন তাকে সাংবাদিকদের সামনে আনল তখন দেখেছি গায়ে শার্ট। ওই শার্ট কার? ওই ধরনের শার্ট কখনোই তাকে পরতে দেখি নাই।

সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তীও বিষয়টি ব্যাখ্যা দেন। সোমবার বিকেরে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আসলে আপনারা যে শার্টটা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, ওই দিন আমি এই শার্টটা পরেছিলাম—এখন দেখেন, আমি এখনও ওই শার্টটাই পরে আছি। যেটি আসামির পরনে ছিল, সেটি তো তার সঙ্গেই আছে। আপনাদের ওই সময়ে তোলা ছবি, আমি যে সময় ফিল্ডে ছিলাম, তার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তোলা একটা ছবি দেখালাম। সেখানেও দেখা গেলো একই। পরে আসামির পরনেও একই ধরনের রঙের একটি শার্ট পরা ছিল। দুইটা দুজনের শার্ট।

তিনি বলেন, আসলে মামলার তদন্তকে বিভ্রান্ত করে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে কতিপয় কুচক্রী মহল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এটার সঙ্গে এই চার খুন বা চার খুনের তদন্ত, বা এই যে আটক ব্যক্তিদের জবানবন্দি—এগুলোর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এটা আমি আবারও বলছি, যে পুলিশকে একটু বিভ্রান্ত করার জন্য বা দেশবাসীকে একটু বিভ্রান্ত করার জন্য এই স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন ধরনের চাল চালছে। এই যে শার্টটা পরে আছি, এটা আড়ংয়ের শার্ট। আড়ং এই একই ব্র্যান্ডের হাজার হাজার শার্ট তৈরি করে বিক্রি করেছে। বিশ্বাস না হলে আড়ংয়ের কাছে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

গত শনিবার রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতি চক্রবর্তী পরিবার নিয়ে বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। ভবনটির প্রথম ও তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ আছে।

পরদিন রোববার বেলা পৌনে একটার টার দিকে রংপুরের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তারা। পরে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে রেখে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ জানায়, মুগ্ধ নগরীর সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করে। সিদ্ধার্থ নগরীর একটি জুয়েলারি দোকানে প্রায় আট বছর ধরে কারিগর হিসেবে কাজ করছে। চার জনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রহস্য উদ্ঘাটন করে।

রোববার রাতে রংপুর মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের আদালতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পুলিশ। এর আগে রাত ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিলন চ্যাটার্জি এ তথ্য জানিয়েছেন।

সিদ্ধার্থের পরনের শার্ট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে এ বিষয়ে তার বড় ভাই পার্থ দাস বলেন, পুলিশ যখন আমার ভাইকে আটক করেছিল, তখন তার গায়ে একটি ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। ওই ধরনের কোনও শার্ট আমার ভাইয়ের কখনওই ছিল না। আমার ভাই কীভাবে ওই শার্টটি পরল, তা আমরা জানি না। এ বিষয়ে পুলিশ ভালো বলতে পারবে।

সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস জানান, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যদি তার ছেলে দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি ছেলের শাস্তিও মেনে নেবেন। ঘটনাটির আরও তদন্ত চান তিনি।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আসামির পরনে যে শার্ট ছিল, সেটি দেখতে আমার শার্টের মতোই রং। আমার শার্টটি এখনও আমার গায়ে আছে, আর আসামির শার্টটি তার গায়েই আছে। আমার শার্টটি আড়ং থেকে কিনেছিলাম। অনেকের কাছেই একই ডিজাইনের শার্ট থাকতে পারে। তবে তার শার্টের সঙ্গে আমার শার্টের কোনও সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নিয়ে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

source: Asia Post

Back to top button