News

আমরা সবাই চেয়ার পেলাম কিন্তু জাতি কী পেল, প্রশ্ন হাসনাতের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘জুলাইকে কাজে লাগিয়ে এমপি হয়েছি তাকে কী লাভ হলো? কেউ মন্ত্রী হয়েছেন, কেউ এমপি হয়েছেন, কেউ আবার লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন- আমাদের তো এসব সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল না। আমরা সবাই চেয়ার পেলাম কিন্তু দিনশেষে সাধারণ মানুষ কী পেল? জাতি কিছুই পায়নি। আমরা গোটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছি।’

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত এক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার ভাগীদার হয়েছি, সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত হয়েছি; কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো উপকার পায়নি। এই কাজের যারা আসল নায়ক, তারা দিন শেষে কিছুই পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘অবাক হই, যারা ভুক্তভোগী ছিল, তারাই এই সংস্কার কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। সালাহউদ্দিন সাহেব উনি নিজে ভুক্তভোগী, হুম্মাম ভাই ভুক্তভোগী, আরমান ভাই ভুক্তভোগী। বর্তমান সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর স্ত্রীও ভুক্তভোগী, এখন ওনারাই আবার এর বিরোধিতা করছেন।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেকটা দল নিজেদের আখের গুছিয়েছে। সবাই ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা পেয়েছে। জাতির জন্য কাজ করেনি। আমরা চাই, জাতি আমাদের থেকে কিছু পাক। আর প্রতারিত হোক এটা চাই না। মানুষ আশাহত হবে এটাও আমরা চাই না।’

তিনি বলেন, ‘যদি ক্ষমতাসীনরা মেজরিটির বড়াই করে সংস্কার থেকে পিছিয়ে যায়, তবে চব্বিশের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি কোনো না কোনো সময় শুরু হবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্যই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। যদি আগের সিস্টেম অক্ষুণ্ন রাখা হয়, তবে যে কোনো ব্যক্তিই পরবর্তী সময়ে হাসিনা হয়ে উঠতে পারে। হাসিনা কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং অনেক ফ্যাসিবাদী আইডিয়ার সমষ্টি।’

ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় নাগরিক সংলাপে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর–আল–মতিন প্রমুখ।

source: Asia Post

Back to top button