মতামত

মোদি জিনপিং ট্রাম্প দিদির থেকে সম্প্রীতি শিখে যাও

আধুনিক সভ্যতার এই বিশ্বের বর্তামানে যদি ৩জন অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট শাসকের নাম বলা হলে যে কেউ অবলীলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আর আমাদের ভারত বর্ষের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম বলে দেবেন চোখ বন্ধ করে। সাম্প্রতি কিছু ঘটনার মধ্য দিয়েই এসব চরিত্রগুলো খুবই স্পষ্ট হয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার এলাকায় জর্জ ফ্লয়েড (৪৬) নামের কৃষ্ণাঙ্গ যুবক শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে নির্মমভাবে খুনের ঘটনার জেরে পুরো যেভাবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে জুড়ে বিক্ষোভ দেখা যায় তাতে মার্কিন শাসন ব্যবস্থা ও শাসকের পৈচাশিক নীতি বিশ্ববাসী ঘৃণার সাথে দেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এক পর্যায়ে বাঙ্কারের মধ্যে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ মারা যাচ্ছে ঠিক তখন ভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুতি না নিয়ে আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নতজানু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদার দাস মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভারতে নিয়ে আসলেন। ট্রাম্পের ভারত আগমন উপলক্ষে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মোদিজী দেশের জনগণের জীবন জীবিকা দারিদ্রতাকে নিয়ে ঠাট্রা তামাশা করলে রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে। যা রীতিমত মানবাধিকার লংঙ্ঘণ। ট্রাম্প যে পথে ভ্রমাণ করবেন সেই পথের আশপাশের কোনো দরিদ্র গরীব মানুষের বাড়ি ঘর ট্রাম্পের চোখের সামনে যেন না পড়ে সেজন্য মোদিজী পাচিল তুলে দিলেন। এ যেন কার্পেটের নীচে ধূলোবালি রেখে রুম পরিস্কার করার মতো ব্যাপার। যশোধা দেবী বলি, আর গুজরাট বলি, এনআরসি/সিএএ, কাশ্মীরে ৮০জন আর লাদাখে ২০জন সেনা শহীদের ব্যাপার বলি সবই মোদির অনৈতিক, অসততার পরিণতি। এই করোনা আবহে গোটা বিশ্ব যখন জীবন বাঁচানোর তাগিদে জীবিকা থেকে দূরে সরে গেছে সেই মুহুর্তে দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এদের কোনো কোনো ধর্ম নেই, সম্প্রীতি নেই সৌহার্দ্য নেই। বর্তমান বিশ্বে মানবতার চরম শত্রু। বিশ্ববাসী দেখতে পাচ্ছে করোনায় অনেক উন্নত দেশে প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমাদের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। স্পেনে প্রায় দুইশ বছর পর আজানের ধ্বনি শোনা গেছে। এই যখন পরিস্থিতি চীন তখন যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে তাদের ৪৩ জন ও আমাদের ২০জন সেনা জওয়ানকে খতম করলো। তাদের পরিবার গুলোকে শোকের মহাসমুদ্রে ভাসিয়ে দিলো। এই চীন থেকেই করোনার উৎপত্তি। তাদের থেকে এটা গোটা বিশ্বে ছড়ালো চীন ভাইরাস প্রতিরোধে মনোযোগী না হয়ে পৈচাশিক ভাবে যুদ্ধে জড়িয়েছে। এই ঘটনাগুলো এক সাথে করলে দেখা যাবে মোদি, জিনপিং, ট্রাম্প উভয়ই স্ব স্ব দেশের জনগণের শত্রু, মানবতার শত্রু। দাঙ্গা হাঙ্গামা, রক্ত হত্যা সেই আদিম যুগের খেলায় এরা মত্ত। আমি বলবো- করোনা ভাইরাস কিন্তু সাম্যবাদী চরিত্রের এরা শোষক শাসক কোনো বাছবিচার করে না। এখনও সময় আছে রক্তের খেলা, মানুষ হত্যা বন্ধ করে থামিয়ে মানুষের জীবন জীবিকা স্বাভাবিক করতে করোনা ভাইরাস নির্মূল করতে মনোযোগী হোন। আর এতদিন যেহেতু শরীরে অশুভ রক্তের প্রবাহ ছিলো তাই আপনার শান্তি সম্প্রীতির সৌহার্দের চর্চা করতে পারেননি। আপনাদের বাকি জীবনটা সুখী সমৃদ্ধ করতে, হাত থেকে লাল বক্ত মুছতে বাংলায় দিদির থেকে শিক্ষা নিয়ে যান। ভারত বর্ষের অলঙ্কার বাংলার অহঙ্কার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দোপাধ্যায় কিভাবে বাংলাকে শান্তিপূর্ণ করে রেখেছেন। এই বাংলার মানুষ প্রেম বলতে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বোঝে , কবি কাজী নজরুল ইসলামের থেকে যুদ্ধ শেখে, শরৎ চন্দ্র চট্রোপাধ্যায়, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যা সাগর, রাজ রাম মোহন রায় সমাজ সংস্কারক হিসেবে আজও ইতিহাসের স্বর্ণ অক্ষরে জ্বল জ্বল করছেন। তারই যোগ্য উত্তরসুরি মমতা বন্দোপাধ্যায়। করোনার মধ্যে এই বয়সেও বাংলাকে নিরাপদ রাখতে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর বলিস্ঠ নেতৃত্বে বাংলা আজ শান্তির আবাসভূমি। সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির তীর্থভূমি। এখানে ধনী, গরীব, সাদা-কালো, নারী-পুরুষ কোনো বিভেদ নেই। এখানে সবাই মানুষ হিসেবেই বিবেচিত হয়। মোদি, জিনপিং, ট্রাম্প বাংলার বীর বীরভূেমর অনুব্রত মন্ডলের আশীর্বাদপুষ্ট কাজল সেখ, রানা সিংদের থেকে শিখে যান কিভাবে মানুষকে শান্তিতে রাখতে হয়। আপনাদের শিক্ষায় ঘাটতি থাকলে বাংলার গর্ব মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত হাতিয়ার আদর্শের সৈনিক অমিত মিত্র, পার্থ চ্যাটার্জি, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, গৌতম দেব, সুজিত বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, শুভেন্দু অধিকারী, রেজ্জাক মোল্লা, সাধন পান্ডে, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক, জাবেদ খান, বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, সৌমেন মহাপাত্র, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বপন দেবনাথ, চন্দ্রনাথ সিনহা, ডক্টর আশিস ব্যানার্জী, শ্যামলা সাতঁরা, শতাব্দী রায়, যুব সমাজের অলংকার অহংকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, অরূপ রায়, বাংলার যুব সমাজের অহংকার অহংকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এসকল মানুষের কাছ থেকে শিক্ষা নেও কিভাবে মানুষকে সম্প্রীতির বাঁধনে বাঁধতে হয়। কিভাবে সম্প্রীতি সৃষ্টি করতে হয়। জয় হিন্দ, জয় বাংলা, মমতা বন্দোপাধ্যায় জিন্দাবাদ।

লেখক: শিল্পী মুরারই, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *