মাঠে কচুগাছ লাগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

খেলার মাঠে নেই খেলোয়াড়দের ছোটাছুটি, নেই ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের কোনো আয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন ও অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকা মাঠে এবার কচুর চারা লাগিয়ে ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মাঠ সংস্কার ও খেলাধুলা চালুর দাবিতে বারবার আন্দোলন এবং প্রশাসনের আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কলেজের বাণিজ্য ভবনের মাঠে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের পর কলেজে আর কোনো খেলাধুলার আয়োজন হয়নি। অথচ প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ইনডোর ও আউটডোর খেলাধুলার ফি বাবদ বছরে ৯০ টাকা করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ ব্যবহার অনুপযোগী থাকলেও সেই অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে খেলাধুলার ন্যূনতম সুযোগ মিলছে না।
শিক্ষার্থীরা জানান, মাঠ সংস্কার, খেলাধুলা চালু, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একাডেমিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে তারা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেছেন। ২০২৫ সালে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনের পর কলেজ প্রশাসন মাঠ সংস্কারের আশ্বাস দেয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি।
চলতি বছরের মে মাসে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা ও আন্তঃবিভাগ টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়। এরপর অধ্যক্ষের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হলেও একাধিক বৈঠকের পরও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ফলাফল মেলেনি। আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত আটকে যায়। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে মাঠে কচুর চারা লাগিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ করছেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, আজকের কর্মসূচি আমাদের প্রতীকী আন্দোলন। এর মাধ্যমে কলেজ প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে থামিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনের ব্যর্থতা ও নীরব ভূমিকার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ।
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবির সিকদার বলেন, ২০২৩ সালের পর কলেজে আর কোনো খেলার আয়োজন করা হয়নি। অথচ প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা স্পোর্টস ফি দেওয়া সত্ত্বেও খেলাধুলা কেন বন্ধ থাকবে? আমরা দ্রুত মাঠ ভরাট ও সংস্কার করে টুর্নামেন্ট আয়োজনের দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ তাজুল ইসলাম বলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য অনেক কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আগে মাঠের চারপাশে রাস্তা ছিল না, এখন রাস্তা হওয়ায় বৃষ্টির পানি মাঠে জমে যাচ্ছে। ক্যাম্পাসের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পানি কমলেই খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।
source: Asia Post







