News

সিলেটে বসছে বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট, বর্জ্য হবে জ্বালানি

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরে প্রথম বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর এই প্ল্যান্ট চালু হলে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত শহরের বর্জ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ জৈব উপাদান এবং প্রচুর পানি থাকে। প্রচলিত ‘ইনসিনেরেশন’ বা বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিতে এই আর্দ্র বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যয়বহুল ও জটিল। এ ক্ষেত্রে বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অত্যন্ত সহজলভ্য ও কার্যকর।

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ এবং নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে গৃহস্থালি বর্জ্য, স্যুয়ারেজ স্লাজ ও কৃষিজ বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দ্রুত অপসারণ করা হয়। এতে বর্জ্য উচ্চ তাপমাত্রাসম্পন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের উপযোগী হয়, যা বাংলাদেশের মতো উচ্চ আর্দ্রতাসমৃদ্ধ বর্জ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রযুক্তি।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় অবস্থিত সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমটি বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঘুরে দেখেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সিসিক উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সিসিকের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) ঘুরে দেখেন এবং বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফেটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, এসটিএস এবং বায়োড্রায়িং প্ল্যান্টের বিভিন্ন দিক প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় সিলেট অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সিসিক যেভাবে কাজ করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, খাল পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সিসিক অন্য অনেক সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে আমি আশা করি।

এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরামর্শক মো. শাহীন আহমেদ খান, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিলেট সিটি করপোরেশন দেশের অন্যান্য সিটির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং বায়োড্রায়িং প্ল্যান্টিটিও দেশের মধ্যে প্রথম সিলেটে স্থাপন হচ্ছে। আমরা সব সময় গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ার চেষ্টায় আছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সংযোজন বায়োড্রায়িং সফলভাবে কাজে লাগানো গেলে সিলেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এই বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। এটি বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তরের মাধ্যমে একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

source: Asia Post

Back to top button