মেহেরপুরে বন্ধুকে হত্যা: ৫ বছর পর ২ কিশোরের সাজা

একসঙ্গে চলাফেরা ও অনলাইন গেম ‘পাবজি’ ও ‘ফ্রি ফায়ার’ খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত গড়ায় হত্যাকাণ্ডে। বন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর সেই ঘটনার পাঁচ বছর পর দুই কিশোরকে শিশু আইনে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দেশীয় স্মার্টফোনগুলো থেকে ক্ষতিকর পাবজি ও ফ্রি ফায়ার অ্যাপ দ্রুত অপসারণে বিটিআরসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অভিযুক্ত মোস্তফা আল মুজাহিদকে ১০ বছর এবং জুনায়েদ ইসলাম হামিমকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি উভয়কে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই কিশোর হলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ এবং নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসেকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ জুন বিকেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আসাদুজ্জামানের ছেলে রেজোয়ান আল আবিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিম। বের হওয়ার সময় আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নেয় এবং তিনজন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়।
সন্ধ্যার দিকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আবিরের বাবার কাছে ছেলের মোবাইলের ইমো নম্বর থেকে হিন্দি ভাষায় ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আবিরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ওই দুই কিশোর।
বিষয়টি আবিরের বাবা পরিবারকে জানালে তারা তাৎক্ষণিকভাবে গাংনী থানায় অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে আবিরের দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে, পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তারা আবিরকে গাংনী উপজেলার মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ এলাকায় হত্যা করে মরদেহ ফেলে এসেছে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত দুই কিশোরকে শিশু আইনের আওতায় যথাক্রমে ১০ বছর ও ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন এবং রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের বিষয়ে পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৮৫ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলেও আসামিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আইন অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আদালত একই সাথে নিষিদ্ধ অনলাইন গেম পাবজি ও ফ্রি ফায়ার অ্যাপ দেশের সব স্মার্টফোন থেকে অপসারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া জরিমানার অর্থ আদায়ে প্রয়োজনে দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে তোলার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
source: Asia Post







