News

মেসেঞ্জার গ্রুপের তর্ক থেকে বাকৃবির দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাস। তবে এবার সংঘর্ষের সূত্রপাত কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা বড় কোনো ইস্যু থেকে নয়; প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি গড়িয়েছে দুই আবাসিক হলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এতে অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

গত শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে বাকৃবির মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (ব্যাচ-৬৫) শিক্ষার্থীদের অফিশিয়াল মেসেঞ্জার গ্রুপে ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি ‘মিম’ পোস্ট করা হয়। ওই পোস্ট নিয়ে আপত্তি তুলে এক শিক্ষার্থী গ্রুপে এ ধরনের বার্তা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে জানাতে পরামর্শ দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

পরে সেই ব্যক্তিগত বিরোধ ধীরে ধীরে একই অনুষদের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া বিতর্ক দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হল থেকে বের হয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের একদল শিক্ষার্থী সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা জোটবদ্ধ হয়ে ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এতে দুই হল এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার আশঙ্কায় নিজ নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সংঘর্ষে আহত চারজনের মধ্যে একজনের মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে এবং অন্যদের হাত-পায়ে জখম হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন থেকে চারজন। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। কাউকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি। আহতদের বেশির ভাগই মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ নিজ নিজ হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর করেছে। তবে পরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

source: Asia Post

Back to top button