খিলগাঁও রেলগেটে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় কামরুজ্জামান খান দিপু (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া জানান, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দিপুকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে শুক্রবার দিবাগত রাতে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই সুমন আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নিহতের বাবা সামসুউদ্দিন জানান, গত বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিপু বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার কাছে ২০ টাকা চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ওর কাছে হাজার হাজার টাকা থাকলেও বাইরে বের হলে আমার কাছ থেকে ২০ বা ৫০ টাকা নিত। যাওয়ার সময় বলেছিল, ‘আব্বা, ২০ টাকা দাও, পান কিনে খাই।’ তখন বুঝিনি এটাই ছেলের সঙ্গে আমার শেষ কথা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ছেলেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যায়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা দিপুকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। পরে আইসিইউ না পাওয়ায় কাঁটাবনের একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং সেখান থেকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, দিপু পানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি খিলগাঁওয়ের ব্লক-সি এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, তিনি একসময় ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন, তবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
source: Asia Post







