জলবায়ু ঝুঁকিতে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ: জাতিসংঘ

যুদ্ধ, সংঘাত ও নিপীড়নের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি মানুষ এখন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। খরা, বন্যা ও চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে— এমন দেশগুলোতেই রয়েছেন এসব বাস্তুচ্যুত মানুষের বড় অংশ।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না বাড়ালে বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এমন দেশগুলোতে বসবাস করছেন, যেগুলো জলবায়ুজনিত চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আগে থেকেই সংকটে থাকা এসব দেশে জলবায়ু পরিবর্তন নতুন বিপদ তৈরি করছে। বন্যা, খরা ও তাপপ্রবাহ মানুষের বসতি, জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও নতুন জীবন গড়ে তোলার সুযোগ আরও সংকুচিত হচ্ছে।
ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার অ্যান্টন লেইস গার্সিয়া বলেন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতিতে আক্রান্ত এলাকায় জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা এখন মানুষের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। সংস্থাটি বলছে, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অনেকেরই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পানির সরবরাহ এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানির সুযোগ সীমিত। ফলে অতিরিক্ত গরমের সময় তারা সহজে নিরাপদ স্থানে যেতে বা তাপপ্রবাহের প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারেন না।
প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিভিন্ন দেশে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যার কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় আরও ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। সাহেল অঞ্চলে খরা, বন্যা ও সংঘাতের সম্মিলিত প্রভাবে সীমিত সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো— জলবায়ু অর্থায়নের সামান্য অংশই সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর কাছে পৌঁছাচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বরাদ্দ অর্থের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ পৌঁছায় ভঙ্গুর ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে। তাই সংস্থাটি সরকার ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় বসছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১। সেখানে জলবায়ু অভিযোজন, অর্থায়ন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন সম্মেলনের আগে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতির সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে।
source: Rajneete






