বিএনপির শোভাযাত্রা যেসব সড়কে, অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে দেশের তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে যায়। দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শোভাযাত্রায় নিজে পায়ে হেঁটে অংশ নেবেন ও নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই দিন বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হবে।
দীর্ঘ দুই দশক পর গত ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। এ বছর দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। ঘোষণা করা হয়েছে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ৭ দিনের কর্মসূচি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার কবরে স্থায়ী কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দিবসটি উপলক্ষে বিকেল ৩টায় বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই র্যালির উদ্বোধন করবেন জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, র্যালিটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর, ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, র্যালিতে তারেক রহমান অংশগ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় এই র্যালি সফল করতে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব এসএম জাহাঙ্গীর আগামীর সময়কে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান র্যালিতে থাকবেন। স্বাভাবিক কারণেই আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করছি, ঢাকা শহরে স্মরণীয় একটা র্যালি অনুষ্ঠিত হবে।’
র্যালির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ ওরগানাইজড (সুসংগঠিত) করছি। মহানগর, থানা, ওয়ার্ডের নেতাদের নিয়ে একাধিক সভা করেছি। প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।’
এর আগে সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশের জেলা ও মহানগরেও এদিন বিএনপির উদ্যোগে র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি করবে।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য-‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারা বেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।
প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
source: Asia Post







