বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল রানঅফে, লড়াইয়ে মস্কোপন্থি বনাম পশ্চিমাপন্থি

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়িয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটে। প্রথম দফায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োটোভা এগিয়ে থাকলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আগামী ১ নভেম্বর রানঅফে তার মুখোমুখি হবেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই গিউরভ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর সদস্য দেশটির এই নির্বাচন এবার মূলত রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে মস্কোপন্থি ও পশ্চিমাপন্থি অবস্থানের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ভোটার উপস্থিতিও ছিল অত্যন্ত কম, যা রাজনীতিবিদদের প্রতি জনসাধারণের অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ইয়োটোভা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গিউরভ পেয়েছেন ৩২ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান খুবই কম। কিন্তু ২৭ প্রার্থীর নির্বাচনে কেউই সরাসরি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট পাননি।
রানঅফে ইয়োটোভার সামনে মূল শক্তি তার রুশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের অবস্থান। তাকে সমর্থন দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভের মস্কোপন্থি ‘প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া’ ও সমাজতান্ত্রিক দল। ইয়োটোভা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পক্ষে এবং মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বলেছেন। রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষেও তার অবস্থান রয়েছে।
অন্যদিকে গিউরভের অবস্থান স্পষ্টতই পশ্চিমাপন্থি। তিনি ইউক্রেনকে সমর্থন ও পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে বুলগেরিয়ার সহযোগিতা আরও জোরদারের পক্ষে। তার তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ে ইউক্রেনের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিও সই হয়েছিল। নির্বাচনি প্রচারে তার সমর্থকেরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

এই বিভাজন শুধু ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতিও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়েছে। কৃষ্ণসাগরে হামলায় আন্তর্জাতিক নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনাও দেশটির নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নটি এখন বুলগেরিয়ার অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে।
বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অনেকটা আনুষ্ঠানিক হলেও পদটি একেবারে প্রতীকী নয়। প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, আইন ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কূটনৈতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন। তাই মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক নাকি পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠতা— রানঅফের ফল দেশটির পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করতে পারে।
এখন লড়াই হবে মাত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে। ইয়োটোভা প্রথম দফায় এগিয়ে থাকলেও গিউরভের সঙ্গে ব্যবধান এত কম যে তৃতীয় ও অন্যান্য প্রার্থীদের ভোট রানঅফের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কম ভোটার উপস্থিতির কারণে সংগঠিত ভোটব্যাংকও বড় ভূমিকা রাখবে।
source: Rajneete







