News

মের্ৎসের কিয়েভ সফরের মধ্যেই সেতুতে রুশ হামলা, আহত ২

ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানাতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস কিয়েভে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ড্রোনের আঘাতে ডিনিপ্রো নদীর ওপরের নর্দার্ন ব্রিজে দুজন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো কিয়েভের বিভিন্ন সেতুকে লক্ষ্য করে হামলা চালাল মস্কো।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় একটি রুশ ড্রোন সড়কে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। ভিডিও ফুটেজে বিস্ফোরণের পর আগুনের শিখা দেখা যায়। এর আগে নর্দার্ন ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি সাউদার্ন ব্রিজেও বারবার হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বারবার হামলার কারণে ডিনিপ্রোর ওপর থাকা কিয়েভের ছয়টি সড়ক সেতুর মধ্যে পাঁচটিতে যান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত বা বন্ধ করতে হয়েছে। এতে শহর জুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে।

প্রায় ৩০ লাখ মানুষের কিয়েভে এক-তৃতীয়াংশের বেশি বাসিন্দা নদীর পূর্ব তীরে থাকেন, অথচ কর্মসংস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় অংশ পশ্চিম তীরে। ফলে সেতুগুলো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে শহরের যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

মের্ৎসের সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের প্রতি জার্মানির দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেওয়া। ২০২৫ সালের মে মাসে চ্যান্সেলর হওয়ার পর সামরিক সহায়তার দিক থেকে জার্মানি ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সমর্থকে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে আসার পর বার্লিনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কিয়েভে গিয়ে মের্ৎস ঘোষণা দেন, রাশিয়ার নতুন জেটচালিত ড্রোন ঠেকাতে সক্ষম ড্রোন তৈরির যৌথ উৎপাদনে অর্থায়ন করবে জার্মানি। তার দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি উৎপাদন দ্রুত করার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘এতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে শক্তিশালী হবে, যা এখন জরুরি।’

মের্ৎসের কিয়েভ সফরের সময় একাধিকবার বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মের্ৎসকে গত সপ্তাহে রুশ ড্রোন হামলার শিকার ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনও দেখান। ওই হামলায় দুজন নিহত হয়েছিলেন।

জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভের মানুষ ‘ভয়াবহ রাত ও দিন’ পার করছেন। মের্ৎস সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে থামানো না গেলে একসময় তার যুদ্ধযন্ত্র ইউরোপের দিকেও ঘুরে যেতে পারে।

সেতুতে হামলার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের রেলপথ, লজিস্টিক হাব, ডেটা সেন্টার, চিকিৎসা সরঞ্জামের গুদাম ও ইস্পাত কারখানায় হামলা বাড়িয়েছে। শীত সামনে রেখে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর ওপরও হামলা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মের্ৎস কিয়েভে পৌঁছানোর পর বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের ইউক্রেনে অবস্থান বা সফর না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের দূতাবাস জানায়, তারা কিয়েভেই থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত কাতারিনা ম্যাথেরনোভা বলেন, রাশিয়ার হুমকি ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন থামাতে পারবে না।

তবে ইউক্রেনকে সমর্থন নিয়ে নিজ দেশেও চাপের মুখে আছেন মের্ৎস। জার্মানির বাম ও ডানপন্থি উভয় রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ সামরিক সহায়তা কমানোর দাবি করছে। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ইউক্রেন নীতির সমালোচনা জোরদার করেছে। দলটির সহনেত্রী অ্যালিস ভেইডেল অভিযোগ করেছেন, দেশের জ্বালানি সংকট ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতির মধ্যেও মার্জ ইউক্রেনের জন্য আরও বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

source: Rajneete

Back to top button