News

গাইবান্ধায় মানুষকে কামড়ানো শিয়াল-কুকুরের নমুনায় মিলল র‍্যাবিস ভাইরাস

গাইবান্ধার দুই উপজেলায় মানুষ ও গরুকে কামড়ানো কুকুর ও শিয়ালের নমুনা পরীক্ষায় র‍্যাবিস ভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছে প্রাণী সম্পদের সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)। নমুনা পরীক্ষা করা ঘাতক কুকুরটির কামড়ে মৃত্যু হয়েছে সাত বছর বয়সি এক শিশুর। আক্রান্ত রয়েছে আরও এক যুবক।

অপরদিকে শিয়ালটির কামড়ের শিকার হয়েছে শিশু ও নারীসহ ৯ জন এবং দুইটি গরু। এ ঘটনায় কুকুর ও শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোবাইদুল কবীর। গত ২১ সেপ্টেম্বর ওই দুই প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার গবেষণাগারে পাঠায় গাইবান্ধার প্রাণীসম্পদ বিভাগ।

এর আগে চলতি মাসের ২০ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের দুইটি গ্রামে নমুনা সংগ্রহ করা শিয়ালটির কামড়ের শিকার হয় শিশু ও নারীসহ নয়জন। তাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। একই শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয় দুটি গরুও।

অপর দিকে এ ঘটনার পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুরে নমুনা সংগ্রহ করা কুকুরটির কামড়ে সিনথিয়া (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং আহত হয় একই এলাকার রাকিব হোসেন (২৫) নামের এক যুবক।

এই দুই ঘটনায় প্রাণীসম্পদ বিভাগ ঢাকার নির্দেশনায় গত ২১ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জের শিয়ালটির মাথা ও সাদুল্লাপুরের কুকুরটির মাথার নমুনা সংগ্রহ করে র‍্যাবিস রোগ নিশ্চিতকরণ ও ল্যাব গবেষণার জন্য ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠায় গাইবান্ধার প্রাণীসম্পদ বিভাগ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলে ঘাতক শিয়াল ও কুকুরটির দেহে র‍্যাবিসের (জলাতঙ্ক) উপস্থিতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. মো. জোবাইদুল কবীর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর প্রাণী দুটির নমুনা সংগ্রহ করে রোগ নিশ্চিতকরণ ও ল্যাব গবেষণার জন্য ঢাকার সিডিআইএলে পাঠানো হয়। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাণী দুটি র‍্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলো বলে নিশ্চিত করেছেন।

শিয়ালের কামড়ে আহতদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া সুন্দরগঞ্জ হসপিটালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া স্নিগ্ধা এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত নয়জনের মধ্যে পাঁচজনের ফেসে (মুখে, ঠোঁটে ও কপালে) আক্রান্ত হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত নয়জনের প্রত্যেককেই আক্রান্তের দিনই র‍্যাবিস ভ্যাকসিন ও আরআইজি দুটিই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গতকাল তাদেরকে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর তাদেরকে পরবর্তী (তৃতীয়) ডোজ নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে এবং ভ্যাকসিনের পরবর্তী ডোজগুলো নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের হাটবামুনী গ্রামে নিহত শিশু সিনথিয়া প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে কুকুরটি তাকে ধাওয়া করে এবং এক পর্যায়ে সিনথিয়ার গলায় কামড় দেয়। এতে শিশুটির শ্বাসনালিতে গভীর ক্ষত হয়ে গুরুতর আহত হয়। একই সময় কুকুরটি রাকিবের হাতে কামড় দেয়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিনথিয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপরদিকে রাকিবকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এছাড়া এ ঘটনার আগের দিন ২০ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা গ্রামে তাণ্ডব চালায় শিয়ালটি। সেদিন বিকেলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিয়ালটি পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা চার শিশু ও নারীসহ নয়জনের মুখে, ঠোঁটে, কপালে ও হাতে কামড় দেয়। পরে স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, এসবের প্রাদুর্ভাবের উৎস ও কারণ অনুসন্ধানে ২২ সেপ্টেম্বর আক্রান্ত এলাকায় আসে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর রোগতত্ত্ব বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যবেক্ষণ টিম। সেদিন সকাল থেকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনব্যাপী সরেজমিনে পরিদর্শন করে সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জের আক্রান্ত তিনটি এলাকায় নমুনা ও তথ্য সংগ্রহ করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের এই পর্যবেক্ষক টিম। একই সঙ্গে সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গাভীর মাংস কাটার ফলে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হওয়ার তথ্য ও নমুনাও সংগ্রহ করে দলটি।

source: Asia Post

Back to top button