News

কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সিংহভাগই রোহিঙ্গা

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন ছয়জন রোহিঙ্গা। কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৩ সেপ্টেম্বরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৬ জন। এরমধ্যে দুই হাজার ৫০৭ জনই রোহিঙ্গা। অর্থাৎ শনাক্ত রোগীদের বড় একটি অংশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। শুধু তাই নয়, এ সময়ে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ছয়জনই রোহিঙ্গা।

আক্রান্ত বেশি টেকনাফে

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর কক্সবাজারের কোনো একটি এলাকার সমস্যা নয়। জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই রোগটির উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে টেকনাফে। ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই উপজেলায় ৩৩২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে মহেশখালীতে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ২৬৮ জনের। তাদের মধ্যে ২৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চক্রিয়ায় ২৬১ জন শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন। উখিয়ায় ১৯৫ জন শনাক্ত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯৩ জন।

এ ছাড়া কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ জন। ঈদগাঁওয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৫৮ জন, ভর্তি হয়েছেন ৫৫ জন। রামুতে ৫৩ জন, পেকুয়ায় ১৪ জন এবং কুতুবদিয়ায় ১৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পৌরসভা এলাকায় শনাক্ত হয়েছেন ১৭ জন। অন্যান্য এলাকা থেকে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪৩ জন।

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৫ জনের মধ্যে ২২ জনই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রয়েছেন। মহেশখালীতে চারজন, টেকনাফে তিনজন, চক্রিয়ায় তিনজন, উখিয়ায় দুজন এবং পেকুয়ায় একজন চিকিৎসাধীন আছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ক্যাম্প এলাকায় ২ হাজার ৫০৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৫০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা মো. রিজুয়ানুল হক ভূঁইঞা বলেন, চলতি সপ্তাহে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে ১৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

তিনি জানান, ক্যাম্পগুলোর জনসংখ্যার তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি পাঁচটি ক্যাম্পে। এর মধ্যে নয়াপাড়া আরসি ক্যাম্পে আক্রান্তের হার ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। ক্যাম্প-১৪-তে ০ দশমিক ৮১ শতাংশ, ক্যাম্প-২৬-এ ০ দশমিক ৩৪ শতাংশ, ক্যাম্প-১৯-এ ০ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনে ০ দশমিক ১২ শতাংশ।

ডা. আবু তোহা মো. রিজুয়ানুল হক ভূঁইঞা বলেন, ক্যাম্পের ঘনবসতি, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বর্ষায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বর্ষা শেষের দিকে এলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ক্যাম্পগুলোতে রোগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

source: Asia Post

Back to top button