৯ মাস বসয়ী শিশু নিথর পড়ে থাকলেও আসেননি চিকিৎসক, দাবি স্বজনদের

রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউতে সাড়ে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর কোনো চিকিৎসক উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শিশুটির স্বজনরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি লাইভ করেন। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা, চিকিৎসা খরচসহ নানা অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ হাসান নামের ওই স্বজন।
লাইভে আসিফ দাবি করে বলেন, তার ভাগ্নির ছেলেকে গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বীর উত্তম সিআর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় চিকিৎসকরা শিশুটির রক্তে সুগার কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। তবে বিকেলে হঠাৎ পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। পরে শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফের ভাষ্য, পরে জোর করে পিআইসিইউতে ঢুকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তারা। এ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি। শিশুটি সকালে মারা গেলেও কেউ আসেনি। কিন্তু চিকিৎসার নামে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ টাকার বেশি বিল করেছে। প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা করে নিত তারা। পুরো হাসপাতালে এনআইসিইউতে কোনো ডাক্তার থাকে না। দুজন নার্স ও দুজন আয়া দিয়ে রাতের কার্যক্রম চালায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ আরও অভিযোগ করেন, ফেসবুক লাইভ করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন বহিরাগত এসে তাকে শাসানোর চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং অভিভাবকের অভিযোগের বিষয়ে তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ৯৯৯-এ এই ঘটনার খবর পেয়ে আমি ওসি তদন্তসহ একটি ফোর্স ওই হাসপাতালে পাঠাই। এ বিষয়ে শিশুটির অভিভাবক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়। অভিযোগকারীদের বলা হয়েছে যদি তারা আইনি ব্যবস্থা চায়, তাহলে সে হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী জানিয়েছে, জানতে চাইলে ওসি বলেন, ভুক্তভোগীরা বলেছেন চিকিৎকদের অবহেলা ছিল। আমার অফিসাররা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে শিশুটির শারীরিক সমস্যা ছিল। তারা ট্রিটমেন্ট দিচ্ছিলেন। শিশুটি চিকিৎসাধীন ছিল। আপ্রাণ চেষ্টার মধ্যেই শিশুটি মারা গেছে। বিষয়টি আমরা দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
source: Asia Post







