News

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসকে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান শি জিনপিংয়ের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটকে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ ভূমিকায় ব্রিকসের অন্য সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে তিনি। শি বলেন, চলমান এই যুদ্ধ ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের জন্য সহায়ক নয়’।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জোটের সদস্যদেশগুলোর সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন শি।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। জোটের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি। বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের সম্মিলিত অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষ্যে সেজেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শনিবার শুরু হয়েছে দুই দিনের এ আয়োজন। এরই মধ্যে ডজনের বেশি বিশ্বনেতা দিল্লিতে জড়ো হয়েছেন। জোরদার করা হয়েছে পুরো দিল্লির নিরাপত্তাব্যবস্থা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর ভারত সফরে এসেছেন। ব্রিকসকে তিনি গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের একটি ‘প্রধান জোট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে স্বনির্ভরতার একটি মডেল হিসেবেও তিনি ব্রিকসকে তুলে ধরেন। তার মতে, উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়ন এগিয়ে নিতে জোটটির ভূমিকা রাখা উচিত।

ব্রিকস কী, সদস্য কত

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নামের আদ্যক্ষর নিয়ে ব্রিকস নামটি তৈরি হয়েছে। ২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে বাণিজ্য জোট হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালে যোগ দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এরপর জোটের সদস্য আরও বাড়ে। ২০২৩ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নতুন সদস্য হিসেবে নেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালে ব্রিকসে যোগ দেয় ইন্দোনেশিয়া। বর্তমানে জোটের সদস্যদেশ ১১টি।

ওই সময় আর্জেন্টিনাকেও ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে জাভিয়ের মিলেই দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পশ্চিমাঘেঁষা নীতি অনুসরণের কথা জানিয়ে ব্রিকসে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আর্জেন্টিনা।

বর্তমানে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এসব দেশের নিয়ন্ত্রণে।

কারা থাকছেন সম্মেলনে

শীর্ষ সম্মেলনে থাকছেন আয়োজক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

প্রাথমিক সদস্য হলেও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবারের সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তিনি সম্মেলনে আসতে পারেননি বলে জানা গেছে। ব্রাজিলের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা প্রতিনিধিত্ব করছেন।

সম্মেলনে আরও থাকছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।

এ ছাড়া ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর মার্কোস জুনিয়র, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এভারিস্ত নাদাইশিমিয়ে, নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা, উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া, উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও লুবেতকিন এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি ভারতে এসেছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলাও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

ব্রিকসের মূল লক্ষ্য পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। তাই এ বিষয়ে জোটের কৌশল ও করণীয় নিয়ে শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জোটের নথিপত্রে দেখা গেছে, এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো— সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়া।

সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেবে চীন। একই সঙ্গে ১৯তম ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন করবে দেশটি।

source: Rajneete

Back to top button