News

৪০ ঘণ্টা পর রাকিবের লাশ উদ্ধার, আমজাদ এখনও নিখোঁজ

ভোলার মেঘনা নদীতে পাড় ধসে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রাকিব (১৮) নামে এক তরুণ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। তবে নিখোঁজ বিজিবি সদস্য মো. আমজাদের (২৮) এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে পার্শ্ববর্তী নোয়াখালীর রামগতি উপজেলার একটি চর থেকে লাশটি শনাক্তের পর স্বজনরা উদ্ধারে রওনা হন।

নিহত রাকিব ভোলা শহরের ভদ্রপাড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে। আর নিখোঁজ আমজাদ একই এলাকার মো. ইব্রাহিমের ছেলে ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলারখাল মাছঘাট সংলগ্ন বালুরমাঠ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে জমানো জিওব্যাগের ওপর বসে পাঁচ বন্ধু আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ জিওব্যাগসহ নদীর পাড়ের বড় একটি অংশ ধসে পড়লে পাঁচজনই স্রোতে তলিয়ে যান। তাদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠলেও তীব্র স্রোতে ভেসে যান আমজাদ ও রাকিব।

শুক্রবার সকালে রামগতি চরে স্থানীয় এক জেলে একটি লাশ দেখতে পেয়ে শিবপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশকে খবর দেন। পরে লাশের ছবি দেখে রাকিবের পরিবার শনাক্ত করে।

রাকিবের লাশ শনাক্তের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা বাবুল। তিনি বলেন, ‘রাকিব আমার আদরের ছেলে ছিল। ঢাকায় চাকরি করত। কয়েক মাস আগে ভোলায় এসেছিল। আবার ঢাকায় যেতে চেয়েছিল। এমনটা হবে জানলে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিতাম। এখন চিরদিনের জন্য ছুটি নিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।’

ভোলার মেঘনা নদীর পাড়ে স্বজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়। ছবি : এশিয়া পোস্ট
ভোলার মেঘনা নদীর পাড়ে স্বজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

আমজাদের স্বজনরা জানান, স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় প্রায় দুই মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন আমজাদ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ছুটি শেষে তার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে নদীর পাড়ে ঘুরতে যান তিনি। সন্ধ্যার পর নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুই দিন পার হলেও এখনও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা গেলে হয়তো তাদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকত বলে দাবি করেন তারা।

নিখোঁজ আমজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় দুই মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিল আমজাদ। আর মাত্র সাত দিন পর ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এখন দেখি, জীবনের তরে ছুটি নিয়ে ফেলেছে আমার বাবা। শেষবারের মতো ছেলেটাকে দেখতে চাই।’

ভোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খন্দকার মিরাজুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকালে নোয়াখালীর রামগতি উপজেলার একটি চরে রাকিবের লাশ শনাক্ত করেছেন তার স্বজনরা। তারা লাশটি উদ্ধারের জন্য সেখানে গেছেন। অন্যদিকে আমজাদকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে ডুবুরি দলের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নৌকা নিয়ে মেঘনা নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল বলেন, নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। গ্রাম পুলিশ, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করছে। রাকিবের লাশ ভোলা আনার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

source: Asia Post

Back to top button