News

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে চালু থাকা ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে জানান।

বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য বি১/বি২ ভিসা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন, তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হয়। সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করেন। এটি ভিসা ফি নয় এবং বন্ড জমা দিলেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা মেলে না। ভ্রমণকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই ব্যবস্থা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও নিয়ম মেনে ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাতায়াত কঠিন করে তুলছে। তাই এটি পর্যালোচনা করে আরও সহজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে এ খাতে আরও মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এসব খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি উল্লেখ করলেও এটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও উভয় দেশের জন্য লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতেও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রতি তাঁর দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

source: Asia Post

Back to top button