News

কক্সবাজারে মদের বারে যুবক খুন, পুলিশ হেফাজতে আরেকজনের মৃত্যু

কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের মদের বারে কথা-কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা মোহাম্মদ সোলাইমান নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ নামে এক যুবক নিহত হন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সোলাইমান মারা যান।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত রাশেদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাশেদ শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন বহদ্দারের ছোট ছেলে। সোলাইমানের পারিবারিক পরিচয় তাৎক্ষণিক নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী দুই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাশেদের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে রাশেদসহ কয়েকজন যুবক রেনেসাঁ হোটেলের বারে বসে মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবক সেখানে আসেন। তারা বারের দোতলায় গিয়ে রাশেদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হোটেলের বাইরে এসেও তার ওপর ভাঙা বোতল দিয়ে হামলা চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় রাশেদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর কয়েকজন পালিয়ে গেলেও কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার মোহাম্মদ সোলাইমান ওরফে সালমান নামের এক যুবককে আটক করে উত্তেজিত জনতা। এরপর তাকে নিহত রাশেদের এলাকার নুনিয়ারছড়ার ফিশারীঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কয়েক দফা মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর সোলাইমানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর পরামর্শ দেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। ফুটেজে রাতে হোটেল রেনেসাঁর বারে কয়েকজন যুবককে একত্রিত হতে দেখা যায়। পরে হোটেলের বাইরে রাশেদের ওপর হামলার দৃশ্যও ফুটেজে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, বারের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

তিনি বলেন, ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

source: Asia Post

Back to top button