ধামরাইয়ের ৯ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিজেই যেন ‘রোগী’, জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ দুই বছর ধরে সরকারি ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে প্রসূতি সেবা, স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) ও কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।
একদিকে জরাজীর্ণ ভবন, অন্যদিকে তীব্র জনবল সংকট—সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় রোগীরা। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের পরামর্শ মিললেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো সরকারি ওষুধ। ফলে শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে। ধামরাইয়ের এই ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এখন যেন নিজেই ‘রোগী’। নিয়মিত সরকারি ওষুধ সরবরাহ না থাকা এবং মাঝে মাঝে সামান্য ওষুধ এলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল রূপ নিয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু ওষুধের অভাবই নয়, ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে চৌহাট, সানোড়া ও কুল্লা—এই তিনটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ছাদের একাংশ ভেঙে পড়েছে, দেয়ালের প্লাস্টার খসে সৃষ্টি হচ্ছে আতঙ্ক। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি জমে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ভেতরেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। নতুন ভবনের নথিপত্র চূড়ান্ত হলেও মিলেনি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ। এছাড়া বেলিশ্বর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ নান্নার ও কুশুরা ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় দিন কাটাচ্ছে।
জরাজীর্ণ ভবন ও ওষুধ সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে প্রকট আকার ধারণ করেছে জনবল সংকট। অনুমোদিত ১৫৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২৭ জন। সবচেয়ে বড় সংকট উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে; ৯টি কেন্দ্রের বিপরীতে দায়িত্বে আছেন মাত্র ৪ জন। সংকট যে চরমে তা স্বীকার করেছেন খোদ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও।
চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম নামে এক নারী জানান, বাচ্চাদের ঠান্ডা-জ্বরের চিকিৎসার জন্য তিনি এসেছিলেন। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিলেও কোনো ওষুধ পাননি। তিনি আফসোস করে বলেন, আমরা সরকারি ওষুধের আশায় এখানে আসি। সংসারের যে খরচ, তাতে বাইর থেকে ওষুধ কেনার সামর্থ্য থাকে না।
আসাদ নামে অপর এক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, শুধু ওষুধ সংকটই নয়, চিকিৎসকরাও সময়মতো আসেন না, আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। আর ওষুধ তো প্রায় দুই বছর ধরে পাই না।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাসেল বলেন, ওষুধের পাশাপাশি আমাদের জনবল সংকটও রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই বরাদ্দ ও জনবল সংকটের সমাধান হবে।
source: Asia Post







