News

সারের কোনো ঘাটতি নেই, সংকট তৈরি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র: কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সার নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে, তা ‘প্ল্যান ওয়াইজ’ ষড়যন্ত্রের অংশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত ৬ মাসে আশা অনুযায়ী সুন্দরভাবে কাজ করতে পেরেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সবজি ও ফুড রপ্তানিকারকদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সমস্যা জেনেছি, আশা করি দ্রুততম সময়ে সমস্যা শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানি শুরু করতে যাচ্ছি। বড় পরিমাণে রপ্তানি হবে। আমসহ অন্যান্য ফল রপ্তানি করতে প্যাকেজ ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। জাপান থেকে আন্তর্জাতিক মানের এ ইউনিট আনা হয়েছে।

আরো পড়ুন

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে কৃষি শক্তিশালী করলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। কৃষকের নায্য দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে দেশের পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সমস্যা ছিল পেয়াজ নষ্ট হয়ে যেতো। এখন ৬ মাস পর্যন্ত স্টোরেজ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেয়াজ স্টোরেজ করা সম্ভব হবে। গত ৬ মাসে টার্গেট ২৫ লাখের মধ্যে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি গাছ রোপন করা সম্ভব হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্ষায় কাঁচামরিচ আমদানি করতে হয়। এ বছরে প্রচণ্ড দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এর ফলে ২ দিনের মধ্যে বাজার ঠিক হয়। আগামী বছর থেকে যেন কাঁচামরিচ আমদানি না করতে হয়, সে চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক দেশ, কোনো কৃষিপণ্য আমদানি করা হবে না। এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। আগামী সিজন থেকে নতুন জাত- বিরি ১১৮ দেওয়া হবে। বন্যার আগেই ফসল তোলা যাবে। হাওরাঞ্চলে দেওয়া হবে এসব বীজ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সব পাম্পকে সোলারে কনভার্ট করতে চায় সরকার। এতে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশের জন্য ভালো হবে। দাতা সংস্থা এবং সরকার মিলে করতে চাচ্ছে। সম্ভব হলে কৃষকের কাছে এজন্য অর্থ দিতে হবে না, আর অর্থ দিতে হলেও সেটির পরিমাণ খুব সামান্য হবে।

তিনি বলেন, এখন বর্ষার সময়, এ সময়ে সবজি উৎপাদন সহজ নয়। এ ছাড়া উৎপাদন খরচ বেশি থাকে। বাজারে যে দাম আছে, সেটি ৮০-১০০ টাকা। কৃষকেরও সংসার আছে। ৮০ টাকায় এক কেজি করোলা ফলাতে তার কতো টাকা খরচ হয়, সেটি দেখতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু কৃষিপণ্য, এক্সাক্টলি বাজার কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। এজন্যই কৃষক কার্ডে যাওয়া হচ্ছে। উৎপাদন ও চাহিদার সঠিক ক্যালকুলেশন এখন নাই। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর কনসেপ্ট নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে সব কৃষককে কার্ড দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

source: Asia Post

Back to top button