News

দুবাইফেরত যাত্রীর শরীরে তল্লাশি, মিলল তিন কোটি টাকার ‘গোল্ড পেস্ট’

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইফেরত এক যাত্রীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তার অন্তর্বাসে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

সোমবার (৩ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বাংলাদেশি যাত্রী মোহাম্মদ তুসারকে (৩৩) নজরদারিতে রাখা হয়। তুসার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার দিঘলগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর সিআইআইডির তথ্যের ভিত্তিতে ডিজিএফআই, এনএসআই এবং কাস্টমস হাউসের যৌথ টিম তার ওপর নজরদারি জোরদার করে। পরবর্তীতে কাস্টমস হলে দেহ তল্লাশি করা হলে তার অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের পেস্ট ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে প্যাকিং উপকরণসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ গ্রাম ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের পেস্ট এবং পাঁচটি চুড়িসহ প্রায় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়া অভিযুক্ত যাত্রীর ব্যবহৃত পাসপোর্ট, একটি রেডমি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন এবং বোর্ডিং পাস জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে সিআইআইডি জানায়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে স্বর্ণকে পেস্টে রূপান্তর করে অন্তর্বাসের ভেতরে লুকানো হয়েছিল। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে সেই কৌশল ব্যর্থ হয়।

এ ঘটনায় কাস্টমস আইন, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন, আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪, বাংলাদেশ ব্যাংকের এফই সার্কুলার-০৬ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণসহ অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

source: Asia Post

Back to top button