News

পিছু হটল গুগল, ২৪ ঘণ্টাতেই বন্ধ এআই ইমেজ টুল

গুগল আর্থ প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া স্যাটেলাইট চিত্র তৈরির নতুন একটি সুবিধা চালু করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল। গবেষক ও ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স বিশেষজ্ঞদের তীব্র উদ্বেগের মুখেই প্রযুক্তি জায়ান্টটি ফিচারটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চালু হওয়া ‘ক্রিয়েট ইমেজ’ নামের এই টুলটির মাধ্যমে গুগল আর্থ ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মের স্যাটেলাইট, অ্যারিয়াল এবং থ্রিডি-ম্যাপিং ডেটার ব্যবহার করে পৃথিবীর যে কোনো স্থানের ওপর ভিত্তি করে এআই-জেনারেটেড ক্লাপনিক ছবি তৈরি করতে পারতেন। ফিচারটিতে গুগলের নিজস্ব এআই মডেল ‘ন্যানো ব্যানানা ২’ একীভূত করা হয়েছিল।

ফিচারটি চালুর পরদিনই গবেষকেরা প্রমাণ করে দেখান, এটি ব্যবহার করে সহজেই যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, পারমাণবিক স্থাপনা বা দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ভুয়া কিন্তু বাস্তবসম্মত স্যাটেলাইট ছবি তৈরি করা যাচ্ছে। ফলে অনলাইনে দ্রুত অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

ফিচারটি স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে গুগল বলেছে, ‘মানুষ বিশ্বের একটি নির্ভরযোগ্য ও সঠিক চিত্র পাওয়ার জন্য গুগল আর্থকে বিশ্বাস করে। আমরা দেখেছি ভূ-স্থানিক পেশাদাররা এই ফিচারটি বিভিন্ন দরকারি কাজে ব্যবহার করছেন; তবে এমন কিছু স্ক্রিনশটও সামনে এসেছে যা স্পষ্টতই আমাদের ব্যবহারকারী নীতিমালার লঙ্ঘন।’

সংস্থাটি আরও জানায়, ‘নিরাপত্তা জোরদার ও অপব্যবহার রোধে শক্তিশালী সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার কাজ চলাকালীন ফিচারটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তৈরি হওয়া ছবিগুলো কিন্তু সরাসরি মূল গুগল আর্থ ম্যাপে প্রদর্শিত হতো না এবং সেগুলোতে এআই ওয়াটারমার্ক যুক্ত ছিল।’

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, ন্যানো ব্যানানায় তৈরি প্রতিটি ছবির পেছনে তাদের নিজস্ব ‘সিন্থআইডি’ ওয়াটারমার্ক এমবেড করা ছিল, যা সাধারণ চোখে দেখা না গেলেও গুগলের লেন্স বা জেমিনি অ্যাপ দিয়ে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

গুগল আর্থের এই এআই আপডেটের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত সোচ্চার হন গবেষকেরা। ওপেন-সোর্স অ্যানালিস্ট হেঙ্ক ভ্যান এস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘আমি মেক্সিকো সীমান্তের শরণার্থী, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, আমস্টারডামের পথদুর্ঘটনা কিংবা গাজায় বোমার গর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল সবকিছুর কাল্পনিক এআই ছবি তৈরির চেষ্টা করেছি এবং কোনোটাই গুগল সিস্টেম বাতিল করেনি।’

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষক ব্র্যাডি আফ্রিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, ‘এআই দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া স্যাটেলাইট ছবি তৈরির সুযোগ আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ এবং গবেষণার কাজকে কঠিন করে তোলে। এগুলো জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে ব্যবহার করা সহজ।’

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান যে, ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক থাকলেও সেই ওয়াটারমার্ক মুছে ফেলা বা স্ক্রিনশটের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়ানো কঠিন কিছু নয়। বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম ও গবেষকদের জন্য গুগল আর্থ একটি প্রাথমিক তথ্যের ক্ষেত্র হওয়ায় নীতিগত শিথিলতার সুযোগ নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেই দ্রুত এই পদক্ষেপ নিল প্রযুক্তি জায়ান্টটি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

source: Asia Post

Back to top button