ছেলেকে ছুরিকাঘাত, মুখ খুললেন জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান

ছেলেকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। তিনি বলেন, এখন আমাদের রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এর আগে, রাত ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা বাজার এলাকায় তার বড় ছেলে শাহরিয়ার জামানকে (৪০) ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান আখতারুজ্জামান।
ফেসবুক লাইভে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনাচিত্তে জানাচ্ছি, এখন আমাদের রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি আমি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছি। আমার ছেলে গ্রামের বাড়িতে ব্যবসা করে, তার খামার রয়েছে। সেখানে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদলের নেতারা সম্মিলিতভাবে তার ওপর হামলা করেছেন।’
তিনি জানান, কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত শাহরিয়ারকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), পুলিশ সুপার, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির সভাপতিকে জানানো হয়েছে।
আখতারুজ্জামান দাবি করেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় স্থানীয়ভাবে অনেকেই জানেন। তাদের নাম পুলিশের কাছেও দেওয়া হয়েছে। সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির এক সহসভাপতির নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম তিনি নিজেই ওসির কাছে পাঠিয়েছেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তাদের কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। গচিহাটা রেলস্টেশনে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আখতারুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি এসব কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করেছেন। এখন তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা মনে করে কেউ কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তার ধারণা।
এ ঘটনাকে বিএনপির দলীয় বিষয় হিসেবে দেখতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা দলের ব্যাপার না। আজকে বিএনপির ভাবমূর্তি তারা খারাপ করছে। আমি আশা করি, বিএনপি দলীয়ভাবে তাদের আশ্রয় দেবে না, কোনো সুযোগ-সুবিধা দেবে না। আইনে যা হয়, তাই যেন হয়।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির সভাপতির দুঃখ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান আখতারুজ্জামান। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় প্রকাশ্যে অনেক সাক্ষী রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক লাইভের শেষ দিকে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আজকে জামায়াতের ওপর বিএনপির লোকেরা আক্রমণ করা শুরু করেছে।’ এ ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার দল জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবে বিষয়টি দেখবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
source: Asia Post







