News

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক শিশুকে স্পেসএক্সের ১টি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা মাস্কের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে নিজের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক কোম্পানি স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের কোম্পানিটির শেয়ার আগামী বছর শিশুদের মধ্যে বিতরণের কথা বলেছেন তিনি। এমন সময়ে এ ঘোষণা এল, যখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সামাজিক প্রভাব নিয়ে সমালোচনা ও নজরদারি বাড়ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘আগামী বছর আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেবো। এটি এমন অনেক উদ্যোগের প্রথমটি হবে।’

বিবিসির খবরে বলা হয়, স্পেসএক্স গত জুনে প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু করে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মধ্য দিয়ে কোম্পানিটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও সম্পন্ন করে। গত শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ১৪৬ ডলার।

তবে শেয়ার বিতরণের পদ্ধতি বা কারা এ সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি শিশুর মধ্যে কীভাবে শেয়ারগুলো বিতরণ করা হবে, কিংবা সব শিশুই এ সুবিধার আওতায় আসবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রত্যেককে একটি করে শেয়ার দিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৭০ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের শিশু-কিশোরদের শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসেই দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ১৮ বছরের কম বয়সী লাখ লাখ শিশুকে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামের নতুন একটি ফেডারেল সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া শিশুরা এ কর্মসূচির আওতায় এককালীন ১ হাজার ডলার সরকারি অনুদান পাওয়ার যোগ্য হবে।

সমালোচনা সামাল দেওয়ার চেষ্টা?

রোববার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের একটি ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক সরাসরি জনগণকে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, কোম্পানিটির অন্তত ৫ শতাংশ শেয়ার একটি ‘পাবলিক বেনিফিট ফান্ডে’ দেওয়া হবে। এ তহবিল থেকে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওই শেয়ারের মূল্য প্রায় ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

অ্যানথ্রপিকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তহবিল থেকে অলাভজনক সংস্থাগুলোকে বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি অর্থ বিতরণ করা হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায়ও এ অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের ঘোষণার জবাবে এক্সে মাস্ক লেখেন, ‘আমি শেয়ারগুলো সরাসরি জনগণকে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি… আমি এটাই করতে যাচ্ছি।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থানে এর প্রভাব এবং এআই প্রযুক্তি চালাতে প্রয়োজনীয় বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কোম্পানি দুটির এ ঘোষণা এসেছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক নিজেও সতর্ক করে বলেছে, এআই প্রযুক্তি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য ‘চরম ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে।

বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’ নামের একটি নতুন চলচ্চিত্রে ফেসবুকের এক কর্মীর কোম্পানির অনিরাপদ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রে রক্ত পরীক্ষাবিষয়ক স্টার্টআপ থেরানোসের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমসের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতারণার দায়ে দণ্ডিত হোমসের ঘটনা প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা নিয়ে বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।

এদিকে ‘মাস্ক’ নামের একটি নতুন প্রামাণ্যচিত্রে ইলন মাস্কের জীবন ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এতে তার কিছু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং রাজনীতিতে বিতর্কিতভাবে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।

source: Rajneete

Back to top button