News

‘তেরঙা’ মিছিল ঠেকাতে বাসায় পুলিশ, অভিজিৎ বললেন ‘ফাঁসিতে ঝোলান আমাকে’

ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে ‘তেরঙা’ মিছিল কর্মসূচি ঠেকাতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বাসায় গিয়ে নোটিশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে তার। পুলিশি নোটিশ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দীপকে বলেন, ‘চাইলে আমাকে ফাঁসিতে লটকে দিন।’

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে দিল্লির ঝান্ডেওয়ালায় দীপকের অবস্থান করা বাড়িতে যায় পুলিশের একটি দল। করোলবাগ এলাকার ঝান্ডেওয়ালায় তিনি যে বাড়িতে রয়েছেন, সেটি মহারাষ্ট্রের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শারদ পাওয়ার) নেতা ও মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের।

সেখানে পুরুষ ও নারী পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দীপকের মুখোমুখি বসে কাগজপত্র দেখাতেও দেখা যায়। এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, কনট প্লেস এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। আইন মেনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে তাকে। তবে নোটিশ দেখলেও কর্মসূচি বাতিলে রাজি হননি দীপকে।

সিজেপির প্রকাশ করা পুলিশ ও দীপকের কথোপকথনের একটি ভিডিওর বরাতে এনডিটিভি জানায়, পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বিকেলে তেরঙা মিছিল না করার অনুরোধ জানান। জবাবে দীপকে বলেন, ‘আমরা কোনো লাউডস্পিকার রাখিনি। আমরা একে বিক্ষোভ সমাবেশও বলছি না। আমরা শুধু যাব। জাতীয় পতাকা উড়াব। চলে আসব। জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি বেআইনি?’

ভিডিওতে দীপকের পরনে সাদা টি-শার্ট ও নীল জিনস দেখা যায়। টি-শার্টে ছিল মহাত্মা গান্ধীর ছবি, আর কাঁধে জড়ানো ছিল জাতীয় পতাকা। পুলিশের দেওয়া কাগজপত্র দেখে তিনি অভিযোগের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দীপকে সাধারণ মানুষকে উসকে দিচ্ছেন, যা বেআইনি। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘এ কেমন ধরনের তামাশা? এটা কি নোটিশ? নোটিশ কি এমন হয়? সাদা কাগজে যা খুশি লিখে দেওয়া কি নোটিশ?’

দীপকে আরও বলেন, ‘তামাশারও সীমা থাকা উচিত। একটাও ভিডিও কি দেখাতে পারবেন যেখানে লোকজনকে আমি হিংসাত্মক হতে প্ররোচিত করছি? চাইলে আমাকে ফাঁসিতে লটকে দিন।’ তার দাবি, মানুষকে সহিংসতায় উসকে দেওয়ার কোনো ভিডিও পুলিশ দেখাতে পারবে না।

দিল্লির মধ্যাঞ্চলে সিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা চলছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলনে দীপকে অভিযোগ করেন, তাদের বাড়ির আশপাশে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি ঘুরছে এবং সাদা পোশাকের পুলিশ নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে। শুক্রবার বিকেলের আগেই তাকে ও তার দলের অন্য নেতাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন দীপকে। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য আশুতোষ ও সৌরভকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাই যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতীয় পতাকাকে ভালোবাসেন, তাদের শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জাতীয় পতাকা ওড়াব। সবাইকে জানিয়ে দেবো, এই পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। যারা দিল্লিতে আসতে পারবেন না, তারা নিজ নিজ শহরে তেরঙা মিছিলের আয়োজন করুন। এই স্বৈরাচারীদের জানিয়ে দিন, জাতীয় পতাকা আমাদের গর্ব। এই পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়।’

এর আগে ১৩ অক্টোবর সিজেপির দুই জ্যেষ্ঠ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে শুক্রবারের কর্মসূচিতে তাদের অংশ নেওয়া অনিশ্চিত।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকেও জাতীয় পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিংয়ের বাড়ি থেকে কয়েক শ ফুট লম্বা একটি জাতীয় পতাকা নিয়ে দলটির কর্মী-সমর্থকেরা স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় এগিয়ে যাচ্ছেন।

দীপকের বাসায় নোটিশ দিয়ে পুলিশ ফিরে গেছে বলে জানা গেছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের নিষেধাজ্ঞার মুখে তিনি ও তার দলের অন্য সদস্যরা কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে গিয়ে জাতীয় পতাকা তুলতে পারেন কি না। কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।

source: Rajneete

Back to top button