আটক নেহা বোরাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।
নেহা বোরা এক্সে লিখেছেন, ‘পুলিশ আমার ফোনটি নিয়ে নিয়েছিল। এখন আমি আমার ফোন ফেরত পেয়েছি। ময়দান গড়ি থানা থেকে নারীদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এত ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
শনিবার সকালে দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হন নেহা। বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তন করে দিল্লি হাটের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে একটি পুলিশ বাসে রাখা হলে বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে অবস্থান নেন।
২৯ বছর বয়সী নেহা দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন এআইএসএর কেন্দ্রীয় সভাপতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনে তিনি অন্যতম পরিচিত মুখ।
বিক্ষোভ ঘিরে প্রায় ৬ হাজার আটক
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন পরিবর্তনের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দলটি কর্মসূচির নাম দিয়েছিল ‘যন্তর মন্তর ২.০’।
তবে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। সম্ভাব্য জমায়েত ও অশান্তি এড়াতে শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বসানো হয় ব্যারিকেড এবং যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এ ছাড়া কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী, আইনজীবী ও অন্যান্য আন্দোলনকারীকেও আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভের আগে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। গুরুগ্রাম থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং মুম্বাই থেকে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকেও আটক করা হয়। এ ছাড়া মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভের সময় অভিনেতা ইমরান খানকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩ হাজার ৩০০ জনকে আটকের তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে আটক হন। বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে অনেককে বিভিন্ন স্থানে আটকে বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের অনুমতি না পাওয়ায় স্থান পরিবর্তনের ঘোষণা দেন নেহা বোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘দিল্লি হাটই আজকের যন্তর মন্তর। আমরা আসছি।’
পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি সম্প্রচার করেন নেহা। সেখানে দেখা যায়, স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। পথে একটি ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগিয়ে যান তারা। দিল্লি হাটে পৌঁছানোর চেষ্টা করা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেও ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের অভিযানে ব্যাপকসংখ্যক বিক্ষোভকারী আটক হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
source: Rajneete






