অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির মৃত্যু, সাড়ে ১২ লাখ টাকায় ‘রফাদফা’

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় আল বারাকা হসপিটাল নামের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের ক্ষোভ ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় পুলিশ হাসপাতালটিতে তালা ঝুলিয়ে দিলেও পরবর্তীতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ‘রফাদফা’ করা হয়েছে।
নিহত পপি আক্তার (২৫) উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকুই রহমতপুর গ্রামের মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী। তার দুই বছর বয়সী একটি সন্তান ও ১৪ দিন বয়সি একটি নবজাতক রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকার ‘আল বারাকা হসপিটালে’ পপি আক্তারের অস্ত্রোপচার (সিজার) করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় ভুল চিকিৎসায় তার রক্তনালি কেটে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ অক্টোবর মধ্যরাতে পপির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানান সাহেবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘মেয়েটির অকালমৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত। ঘটনার খবর পেয়ে আমি সরাসরি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। মাতৃহীন দুটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে আল বারাকা হাসপাতালের মালিক কাফির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, এলাকাবাসী হাসপাতালটিতে ভাঙচুরের প্রস্তুতি নিলে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ হাসিবুর রেজা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
source: Asia Post






