মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা, ৬ হুতি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে সৌদি আরবের মক্কা, জেদ্দা, তায়েফ, ইয়ানবু ও তাবুকসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর। তবে কয়েকদিন আগের মতো এবারেও সতর্কতা জারির কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিষয়ক জোট দাবি করেছে, হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে তারা।
বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কা নগরী, জেদ্দা ও তায়েফসহ মক্কা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবু এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সতর্কবার্তায় সম্ভাব্য বিপদের কথা বলা হলেও শুরুতে বিপদের ধরন বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তবে সতর্কতা জারির অল্প সময়ের মধ্যেই বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, এসব এলাকার বিপদ কেটে গেছে। ফলে সতর্কতাগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। মক্কাকে ঘিরে এমন সতর্কতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শহরটিতে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুই স্থানের একটি মসজিদুল হারাম অবস্থিত।
এরই মধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিষয়ক জোট জানায়, হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তায়েফ ও ইয়ানবু লক্ষ্য করে এগিয়ে আসছিল। সৌদি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, হুতি গোষ্ঠীর ‘উসকানি ও লঙ্ঘন’ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যেকোনো হামলার চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
তবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দাবি পাওয়া যায়নি। সৌদি জোটের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।
সৌদি আরবে বৃহস্পতিবারের সতর্কতা এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিদের হামলার পরিধি দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থাপনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব জানিয়েছিল, হুতিরা রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা সেটি ভূপাতিত করার দাবি করে। একই সময়ে বায়িশ, তায়েফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতেও হামলার চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
ওই ঘটনার পর রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ১৮ সেপ্টেম্বরও জেদ্দা, তায়েফ, খামিস মুশাইত ও আল-উলা অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সেবারও সতর্কবার্তায় বিপদের নির্দিষ্ট ধরন জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর, তেল অবকাঠামো ও লোহিত সাগরীয় বন্দরগুলো নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের যুদ্ধের প্রভাব লোহিত সাগরের নৌপথেও পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে কম থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে আবার দ্রুত বেড়েছে। হুতিদের হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক তৎপরতাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এ অবস্থায় মক্কা ও জেদ্দার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং ধর্মীয় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন করে সতর্কতা জারি হওয়া সৌদি নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের ছয় ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সেই উত্তেজনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
source: Rajneete






