বিএনপির টিকিট পেতে লাগবে রাজনৈতিক মামলার নথি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির দলীয় সমর্থন পেতে চেয়ারম্যান পদে আগ্রহীদের জমা দিতে হবে রাজনৈতিক মামলার নথি। রাজনৈতিক জীবনে কতটি মামলার আসামি হয়েছেন, কোন মামলায় কারাভোগ করেছেন এবং দলের দুঃসময়ে কী ভূমিকা রেখেছেন, তা যাচাই করেই দেওয়া হতে পারে দলীয় টিকিট। এ লক্ষ্যে যশোরের আট উপজেলায় বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে জেলা বিএনপি। ইতোমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় শুরু হয়েছে আবেদন গ্রহণ।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির দুঃসময়ে কারা দলের পাশে ছিলেন, আর কারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দল ছেড়ে দূরে সরে গিয়েছিলেন, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মামলার নথিকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছে দল। তবে শুধু মামলার সংখ্যা নয়, প্রার্থীর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, জনপ্রিয়তা ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণে গুরুত্ব পাবে।
এদিকে আট উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে জয় নিশ্চিত করতে প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন কৌশল নিচ্ছে বিএনপি। জেলা বিএনপির এক বৈঠকে এ বিষয়ে কয়েকটি প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও এলাকায় জনপ্রিয় ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। এমন প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়ী করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের দায়িত্ব নেবে যশোর জেলা বিএনপি।

গত ৫ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলা বিএনপির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহীদের আবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আগ্রহীদের সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকনের কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত, রাজনৈতিক মামলার সংখ্যা, মামলা নম্বর ও এজাহারের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে চারটি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীরা রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলার প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে জেলার বাকি সাত উপজেলায়ও একই প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ করা হবে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজন নেতা এশিয়া পোস্টকে জানান, বিএনপির দুঃসময়ে তারা হামলার শিকার হয়েছেন, রাজনৈতিক মামলায় আসামি হয়েছেন এবং কারাভোগ করেছেন। দলের কঠিন সময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। তাদের প্রত্যাশা, যারা দলের সঙ্গে গাদ্দারি করে সুসময়ে আবার দলে ফিরে এসে মনোনয়ন চাইছেন, তাদের যেন দলীয় সমর্থন দেওয়া না হয়।
যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে অনেকে দল ছেড়ে চলে গেছেন। এখন তাদের অনেকেই আবার দলে ভিড়তে চাই এবং নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু দুঃসময়ে বিএনপির পাশে কারা ছিলেন, তা রাজনৈতিক মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অনেকটাই স্পষ্ট হবে।
জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, আগামী দিনে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনেই বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যোগ্য ও জনসমর্থনপুষ্ট প্রার্থী দিতে হবে। বর্তমানে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিই জামায়াতের দখলে। এ পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থী বাছাইকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে দল।
জেলা বিএনপির বৈঠকে প্রস্তাব এসেছে। এমন প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যিনি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও এলাকায় জনপ্রিয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। এমন প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়ী করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যয় দল বহন করবে।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তার প্রমাণ হিসেবে আগ্রহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছে রাজনৈতিক মামলার নথি চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে জেলার বাকি সাত উপজেলাতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
source: Asia Post







