জিয়াউর রহমানকে দুবার হত্যার পরিকল্পনা করেছিল একই গ্রুপ: আবু রুশদ

শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের আগেও চট্টগ্রাম পাসিং আউট প্যারেড এবং কক্সবাজারে সামরিক মহড়া অপারেশন আয়রন শিল্ডের সময়ও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল একই গ্রুপ, এমন দাবি করেছেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ।
গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেসরকারি একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে টক শোতে ‘ক্ষমতার রাজনীতি’ বিষয়ক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবু রুশদ বলেন, চট্টগ্রামে এই (শহীদ জিয়ার হত্যাকাণ্ড) ঘটনা যখন ঘটে, তখন এটি কারা করেছিলেন, পুরো বিষয়টি কী ছিল, তা সম্পর্কে জানাশোনা খুব কম লোকই জীবিত আছেন।
জবাবে আবু রুশদ বলেন, জিয়া হত্যাকাণ্ডের সময় ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল মোহাব্বত জান চৌধুরী, যিনি জেনারেল জিয়াউর রহমানের কোর্সমেট ছিলেন। তিনি এখনো বেঁচে আছেন, আমি ২০০০ সালে তার একটি ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। তিনি শুধু বলেছিলেন, প্লেনে ওঠার সময় তিনি জেনারেল জিয়াকে বন্ধু হিসেবে পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন তিনি না যান, অথবা সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসেন কিন্তু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল বা কী হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। গত বুধবার রাতে বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তিনি এখন মিলিটারি পুলিশের হেফাজতে আছেন।
সেদিনের হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রতক্ষদর্শী এই মোজাফফর। তিনি যে পালিয়ে ভারতে গেলেন, তাকে কে সহায়তা করল, এসব তথ্য জানার দাবি উঠেছে এবং জাতীয় তদন্ত কমিশনের দাবিও উঠছে। এ নিয়ে উপস্থাপক প্রশ্ন রাখেন।
জবাবে তিনি বলেন, ঢাকায় জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় নবম পদাতিক ডিভিশন গঠন করা হয়, তখন এর প্রথম জিওসি ছিলেন মেজর জেনারেল মীর শওকত আলী (বীর উত্তম), তার এডিসিও ছিলেন মেজর মোজাফফর। জিয়া হত্যাকাণ্ডের সময় মেজর মোজাফফর চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ডিকিউ ছিলেন এবং তিনি রক্ষীবাহিনীর প্রথম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। সেনাবাহিনীতে দেওয়ার আগে রক্ষীবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসারও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জিয়া হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার পলাতক সেনা কর্মকর্তা সম্পর্কে আবু রুশদ বলেন, মেজর মোজাফফরকে বনানী ডিএইচএস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর যারা জীবিত আছেন, তাদের কাছ থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি, সেদিন মেজর মোজাফফর, মেজর শওকত আলী এবং মেজর রেজাকে জেনারেল মঞ্জুর দায়িত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমানের লাশ দাফন করার জন্য। কিলিং টিমে মেজর মোজাফফর সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, তা নিয়ে দ্বিমত আছে।
জেনারেল জিয়াকে গুলি করেছিল, এমন প্রশ্নের জবানে ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক বলেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেলোয়ার সরাসরি গুলি করেছিলেন বলে শোনা যায়। তবে মেজর মোজাফফরের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি করার প্রমাণ না থাকলেও, তিনি এই পুরো ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনার সঙ্গে প্রথম থেকেই জড়িত ছিলেন এবং হত্যার পরের বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপ্রতি থাকাবস্থায় জিয়াকে কতবার হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে আবু রুশদ বলেন, জেনারেল জিয়াউর রহমানকে হত্যার আরও দুটি প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। একবার চট্টগ্রাম বিএমএতে পাসিং আউট প্যারেডের সময় আরেকবার কক্সবাজারে ‘অপারেশন আয়রন শিল্ড’ নামক যৌথ সামরিক মহড়ার সময় জেনারেল জিয়া এবং তার কোর্সমেট মীর শওকত আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়, কিন্তু সে সময় প্ল্যান ব্যর্থ হয়। অবশেষে ১৯৮১ সালের ৩০ মে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদের আদেশে গঠিত কোর্ট অব ইনকয়ারির সময় মেজর মোজাফফর ভারতে পালিয়ে যান। এরপর তার আর কোর্ট মার্শাল হয়নি। তিনি পলাতক বা ‘ডেজার্টার’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তার র্যাংক চলে যায়। ভারতে তিনি নাম পরিবর্তন করে বিপ্লব সরকার ও জয় ব্যানার্জি নাম ধারণ করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে ‘সেফ হাউসে’ থাকতেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং সরকার পরিবর্তনের পর আবার ভারতে ফিরে যান এবং ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলে তিনি বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন বলে জানান আবু রুশদ।
source: Asia Post







