News

উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ ফিফার

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে বিশ্ব ফুটবলের দুই শক্তিশালী সংস্থার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে নথি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া উয়েফার বিরুদ্ধে এবার ‘অপপ্রচার চালানোর’ অভিযোগ তুলেছে ফিফা।

রয়টার্সের দেখা আদালতের নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর একটি আদালতে দেওয়া আবেদনে এ অভিযোগ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। উয়েফার আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত অথবা বাতিল করার আবেদনও জানিয়েছে ফিফা।

আদালতের নথিতে ফিফা বলেছে, ‘আবেদনগুলো নামেই আইনি নথি। আসলে এগুলো ফিফা ও এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উয়েফার অপপ্রচারের পক্ষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বেশি কিছু নয়।’

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি আদালতে আলাদা আবেদন করেছিল উয়েফা। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নিয়ে সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলা প্রস্তুত করতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাক্ষ্য এবং নথি চেয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ওই পরিকল্পনায় পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব ছিল। প্রায় ৪২০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল জশ কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল।

উয়েফার অভিযোগ, ফিফার পরিচালনা পর্ষদ ও ২১১ সদস্য দেশের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই একটি ছোট গোষ্ঠী পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিল। এর মাধ্যমে ইনফান্তিনো ও তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ফিফার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ থেকে স্থায়ীভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেতেন কি না, সেটিও তদন্ত করতে চায় সংস্থাটি।

তীব্র বিরোধিতার মুখে গত ৩১ জুলাই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। তবে আদালতে দেওয়া আবেদনে সংস্থাটি বলেছে, উয়েফা যে ফৌজদারি মামলার কথা বলে নথি চাইছে, সুইজারল্যান্ডে এমন কোনো মামলা এখনো শুরুই হয়নি। মামলা শুরু করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতাও উয়েফার নেই বলে দাবি ফিফার।

ফিফার আরও অভিযোগ, ইউরোপীয় ফুটবলের আর্থিক ও প্রতিযোগিতামূলক আধিপত্য রক্ষা করতেই প্রকল্পটির বিরোধিতা করেছে উয়েফা। ছোট ফুটবল দেশগুলো আর্থিকভাবে শক্তিশালী হলে ইউরোপের বাজার ও প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর সামনে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতো বলে দাবি তাদের।

এই বিরোধের মধ্যে ইনফান্তিনোর ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। ২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা তার। উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনকাকাফ তার পদত্যাগের দাবি তুলেছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কর্তৃপক্ষের বড় অংশের সমর্থন এখনো ইনফান্তিনোর সঙ্গে রয়েছে। উয়েফা আপাতত ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের পরিকল্পনা স্থগিত করলেও সংস্থাটির সংস্কার এবং সভাপতির ক্ষমতা সীমিত করতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

source: Asia Post

আরো দেখুন
Close
Back to top button