এবার সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের মামলায় ফাঁসছে ট্রাম্প প্রশাসন

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘স্টারস অ্যান্ড স্টাইপস’-এর তিন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক। মামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধে সরাসরি সেন্সরশিপ চালানোর গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ওয়াশিংটন ডিসির একটি জেলা আদালতে সংবাদপত্রটির প্রকাশক ম্যাক্স লেডারার, প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিন এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিবেদক লারা কোর্তে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতে দাখিল করা নথিতে তারা বলেছেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী তাদের বাকস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।
আমেরিকান গৃহযুদ্ধের সময় থেকে যাত্রা শুরু করা ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরপেক্ষ সংবাদ উৎস হিসেবে পরিচিত। যদিও সংস্থাটি সরকারি তহবিলে পরিচালিত হয়, তবে এর সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ঐতিহাসিকভাবে সুরক্ষিত ছিল। তবে সম্প্রতি পেন্টাগন থেকে ওই তিন সাংবাদিককে অমান্য বা অবাধ্যতার অভিযোগে বরখাস্তের নোটিশ দেওয়া হয়।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গণমাধ্যমটির স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষ। গত জুলাইয়ে ‘সিবিএস সানডে মর্নিং’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান সম্পাদক এরিক স্লাভিন পেন্টাগনের জনসংযোগ হাতিয়ার না হয়ে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বজায় রাখার পক্ষে জোরালো মন্তব্য করেছিলেন।
এর আগে, পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল ‘ওয়েক বিভ্রান্তি’ দূর করে সংবাদপত্রটির বিষয়বস্তু পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যাকে সমালোচকরা পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল বলে মনে করছেন।
তাছাড়া, গত নভেম্বর থেকে সমুদ্রে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে রসদ ঘাটতি এবং নাবিকদের মানসিক সংকটের খবর প্রথম প্রকাশ করেছিল এই সংবাদপত্রটি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওই প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশোধ হিসেবেই সিবিএস-এর পুরোনো সাক্ষাৎকারের অজুহাতে তাদের বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে প্রতিবেদক লারা কোর্তে জানান, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের একটি মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতেই তাদের এই আইনি লড়াই।
২১ ও ২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করা স্লাভিন ও লেডারার এবং সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্ব নেওয়া কোর্তের এই মামলা মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি বড় মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ৮৫০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসবের মধ্যে ৫০০টিরও বেশি মামলায় আদালত প্রশাসনের নীতিগুলো বহাল রেখেছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ১৫০টিরও বেশি ক্ষেত্রে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ বা প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসনের নীতি আংশিক বা সম্পূর্ণ আটকে দিয়েছে।
source: Asia Post







