নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ পর্যটকসহ ৫৭৯

তিব্বত অঞ্চলে আঘাত হানা তীব্র ভূমিকম্পের মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় এক নজিরবিহীন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল। আকস্মিক বন্যা ও পাহাড় ধসে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে দেশটির মধ্যাঞ্চল। ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর হিমালয়কন্যা নেপালে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন বহু বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৫৭৯ জন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় এ বিপর্যয় ঘটে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্প হয় এবং ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কারণ অনুসন্ধানে বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার রাত পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিত্তওয়ানে ৩৩ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, গোর্খায় ১৯ জন, নুয়াকোটে ১১ জন, নওয়ালপুরে ১১ জন, তানাহুঁতে ৭ জন এবং রসুয়ায় ১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানায়, নিখোঁজ ৫৭৯ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি পর্যটক এবং ৬২ জন স্থানীয় নেপালি। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪্য৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। তাঁরা মূলত ভারত ও নেপাল সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
এদিকে নদীর তীব্র তোড়ে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সঞ্চালন অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতের গিরংয়েও এ বন্যায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৬ ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সেখানে সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।
source: Rajneete







