News

আইসিসির প্রেসিডেন্টসহ দুই কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও সিনিয়র আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তার অভিযোগ, আইসিসির এই দুই কর্মকর্তা এমন দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন, যারা আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না।

আইসিসিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ আদালত হিসেবে আখ্যায়িত করে রুবিও বলেন, আদালত ইচ্ছাকৃতভাবে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং এখতিয়ার অতিক্রম করেছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ আমরা সহ্য করব না।

তবে আইসিসি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, আদালতের বিচারক, আইনজীবী ও কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।

আরো পড়ুন

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগে আইসিসির আরও অন্তত ১১ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নয়জন বিচারক ও প্রধান প্রসিকিউটর। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হলো আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের তদন্ত। এ ছাড়া গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি।

নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি আইসিসির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষে প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগও করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—কোনো দেশই আইসিসির সদস্য নয়। তবে ফিলিস্তিন ২০১৫ সালে আইসিসির সদস্য হওয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার আদালটির রয়েছে।

আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ নতুন নয়। প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প আদালতটিকে ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আইসিসির কোনো এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব নেই।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আদালটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তার প্রশাসন। গত মাসে রুবিও আইসিসির ১২৫ সদস্য দেশকে আদালটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি সদস্য দেশগুলোতে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো বিষয় আদালতে পাঠালেও আইসিসি সেটির তদন্ত ও বিচার করতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচারের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।

জুনে আইসিসির তিন বিচারকও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাদের দাবি, গত বছর তাদের ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বেআইনি এবং এর মাধ্যমে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এদিকে, আইসিসির ওপর মার্কিন চাপ আরও বাড়ার মধ্যে আদালটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

source: Asia Post

Back to top button