ইইডি প্রকৌশলী হাসান শওকতের দুর্নীতি অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে ঘুষ লেনদেন ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত সচিবকে (উন্নয়ন) কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন—শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখার উপসচিব। উপসচিব কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্তের স্বার্থে কমিটি উপযুক্ত যেকোনো কর্মকর্তাকে ‘কো-অপ্ট’ করার এখতিয়ার পাবে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) এশিয়া পোস্টসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও চিত্র ও প্রাপ্ত নথিপত্রে ইইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের কার্যালয়ে বস্তা ও ব্যাগ থেকে কোটি কোটি টাকা বের করে লেনদেন এবং বান্ডিল সাজিয়ে রাখার দৃশ্য সামনে আসে।
অনুসন্ধানে উঠে আসে, কাজ না করেই ভুয়া পরিমাপ ও বিলের মাধ্যমে এবং কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন ঠিকাদার ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেছেন।
বিশেষ করে শের-ই-বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ে আটতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও ভুয়া পরিমাপ দেখিয়ে ১০ তলা ভবনের ছাদ ও রডসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল ছাড় করার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভুয়া বিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অনিয়ম ও ঘুষের টাকার বিনিময়ে কর্মকর্তা হাসান শওকত নিজের ও স্বজনদের নামে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত শতক জমি, বহুতল ভবন ও রিসোর্টসহ অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
source: Asia Post







