News

নিজেকে ফিট রাখার গোপন রহস্য ফাঁস করলেন ঋতাভরী

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই টালিউডে ‘ফিট’ অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ঋতাভরী চক্রবর্তী। কোনো ফটোশুট বা নতুন চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের অন্তত দুসপ্তাহ আগে থেকে খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট, চিনি, তেল ও লবণ সম্পূর্ণ বাদ দিতেন তিনি। এর ফলে দ্রুত ওজন কমলেও সেই অতিরিক্ত নির্মেদ চেহারাই একসময় চরম বিপদ ডেকে আনে তার অপারেশন টেবিলে।

শরীরের অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণে প্রথমবার অস্ত্রোপচারের সময় তার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে। ফলে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন ওজন না বাড়ালে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। এর পর শুরু হয় ওজন বাড়ানোর লড়াই। পরবর্তীতে আরও দুটি অস্ত্রোপচার এবং স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তার ওজন অনেকটাই বেড়ে যায়।

তবে সম্প্রতি সেই অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে সবাইকে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। কীভাবে ঘটালেন এই পরিবর্তন, দুর্গাপূজার আগে কীভাবে নিজেকে এমন ফিট রাখছেন; সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত জানিয়েছেন ঋতাভরী।

স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী বলেন, একসময় আমার শুষ্ক চেহারা ছিল, যাকে সমাজ তথাকথিত ‘ফিট’ বলে মনে করে। কিন্তু ওই চেহারার কারণে শরীর ভেঙে পড়েছিল এবং মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। বলা যায়, প্রকৃত অর্থে সুস্থ হতেই আমাকে ওজন বাড়াতে হয়েছিল। সেই বাড়তি ওজন নিয়েও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি এবং দর্শকরাও তা সাদরে গ্রহণ করেছেন।

তাহলে হঠাৎ ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত কেন; এমন প্রশ্নে ঋতাভরী জানান, অত্যধিক কম ওজন এবং বাড়তি ওজন দুটো রূপই তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। দুই ক্ষেত্রেই ফিটনেসের ঘাটতি স্পষ্ট টের পেয়েছেন। তাই প্রায় দেড় বছর আগে নিজেকে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট দেখার ইচ্ছা হয় তার; যেখানে না খেয়ে কষ্ট পেতে হবে না, আবার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে হাঁপিয়েও যেতে হবে না।

এর পরই শুরু হয় তার নতুন ফিটনেস যাত্রা। কোনো ওষুধ বা চটজলদি ব্যবস্থার পেছনে না ছুটে দেড় বছর ধরে কঠোর শৃঙ্খলা ও ধৈর্য বজায় রেখে ধীরে ধীরে ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছেন তিনি। তবে এই যাত্রা শুরু করার আগে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ও পুষ্টিবিদসহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেন নিজের সার্বিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে।

ঋতাভরীর দৈনন্দিন ডায়েট ও ফিটনেস রুটিনে ছিল সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে এক গ্লাস ডাবের পানি দিয়ে দিন শুরু করা। এরপর একটি পূর্ণাঙ্গ ডিম, তিনটি ডিমের সাদা অংশ, মাখন মাখানো এক টুকরো পাউরুটি এবং একটি কলা দিয়ে সকালের নাস্তা সারেন। পেট ভরার পর খান চা বা কফি। পিত্তথলি (গলব্লাডার) অপসারণের পর থেকে খালি পেটে চা-কফি খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে চা-কফি পরিহার করেন।

ফিটনেস জার্নির শুরুতে প্রতিদিন ৬ হাজার পা হাঁটতেন, যা বর্তমানে ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। নিজের সুবিধার্থে বাড়িতেই জিমের ব্যবস্থা করেছেন। কাজের দিনগুলোতে ৩৫ মিনিট এবং অবসরের দিনগুলোতে অতিরিক্ত ১০ মিনিট ব্যায়াম করেন। প্রতিদিন টানা এক ঘণ্টার কঠোর শরীরচর্চায় বিশ্বাসী নন তিনি।

দুপুরে সাধারণত থাকে মাটন স্টু ও ব্রাউন রাইস অথবা রোস্টেড চিকেন, কাবলি ছোলার ডাল ও ২টি রুটি। তবে মেনু যাই হোক, প্লেটে গাজর, শসা, টমেটো ও পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি এক বাটি তাজা সালাদ থাকতই। আর বিকেলের খাবারে তিনি রাখেন সেদ্ধ আলু ও ছোলা দিয়ে বানানো চাট, চুরমুর, মুড়িমাখা কিংবা ভুট্টার চাট।

রাতের খাবারের মেনু অনেকটা দুপুরের মতোই, তবে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে প্রোটিনের উৎস হিসেবে মুরগির মাংসের সাথে কম ক্যালোরির গ্লাস নুডলস খেয়ে থাকেন।

প্রতি রোববারে তার খাদ্যতালিকায় থাকে আধা প্লেট মাটন বিরিয়ানি। বর্তমানে দৈনিক ১৫০০ ক্যালোরির খাবার মেপে মেপে খান তিনি।

শারীরিক স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি না করে ওজন কমানোয় ঋতাভরীর চেহারার স্বাভাবিক জৌলুস বিন্দুমাত্র কমেনি। তথাকথিত ‘জিরো ফিগার’-এর অন্ধ অনুকরণ না করে নিজের শরীর বুঝে সুস্থ ও নির্মেদ থাকার এই প্রতিশ্রুতিই এখন তার মূল মন্ত্র।

সামনে দুর্গাপূজা, তাই নিয়ম মেনে প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করছেন এবং ক্যালোরি মেপে খাবার খাচ্ছেন। মুচকি হেসে ঋতাভরী বলেন, এখন এত কড়া নিয়ম মেনে চলছি, যাতে পূজার দিনগুলোতে নিশ্চিন্তে মনের মতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারি।

source: Asia Post

Back to top button