News

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে খুলনার ৬০৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়

খুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০৫টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ পূরণ না হওয়ায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, বাড়ছে অন্য শিক্ষকদের ওপরও কাজের চাপ।

মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হলে তাকে একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয়। দাপ্তরিক প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের বাইরে যেতে হলে তার নির্ধারিত ক্লাস অন্য শিক্ষকদের নিতে হচ্ছে। এতে একদিকে শিক্ষক সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম।

রূপসার বলটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথীন্দ্রনাথ মহন্ত বলেন, বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তাকে প্রতিদিন পাঁচটি ক্লাস নিতে হয়। দাপ্তরিক প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের বাইরে যেতে হলে অন্য শিক্ষকদের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে।

খুলনা সদর থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘খুলনা সদরের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করতে হচ্ছে তাদের।’

আরো পড়ুন

ফুলতলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।’

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০৫টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এর মধ্যে খুলনা সদরে ১১৩টি, ডুমুরিয়ায় ১১৩টি, কয়রায় ৮৫টি, পাইকগাছায় ৭৩টি, তেরখাদায় ৬২টি, দাকোপে ৫৫টি, বটিয়াঘাটায় ৫২টি, ফুলতলায় ৩৯টি, রূপসায় ৩৭টি এবং দিঘলিয়ায় ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মো. ফজলে রাব্বি বলেন, ‘একটি দেশের প্রাথমিক শিক্ষা সে দেশের শিক্ষার ভিত্তি। একটি জেলার ৬০০-এর বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত বা সহকারী শিক্ষকরা যখন অতিরিক্ত দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে বাধ্য হন, তখন শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়; যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর।’

তিনি বলেন, আইনি জটিলতা বা মামলার কারণে বছরের পর বছর নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত বিশেষ উদ্যোগে আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসন করা। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি এবং শূন্য পদগুলোতে পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করা দরকার।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুলনা থেকে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। অতীতে এ নিয়ে মামলা থাকায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। বর্তমানে মামলাগুলোর নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।

source: Asia Post

Back to top button