পিরোজপুরে প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী আটক

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন নাঈম হাওলাদার নামে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মী। এ সময় চুরিতে বাধা দেওয়া ও উদ্ধারে এগিয়ে আসায় তার ছুরিকাঘাতে প্রবাসীর স্ত্রী, মেয়ে ও এক প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
আটক নাঈম ওই এলাকার মো. রফিক মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বাড়ির পাশের একটি সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন নাঈম। এ সময় ঘরে থাকা ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী নাজমা আক্তার তাকে দেখে ফেলেন। নাজমা ফোনে বিষয়টি স্বজনদের জানানোর চেষ্টা করলে নাঈম তাকে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।
নাজমার চিৎকারে মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন নাঈম। একই সময় তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী নুহিন মিয়াও এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নাঈমকে আটক করে গণপিটুনি দেন এবং আহতদের উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নাঈমকে হেফাজতে নেয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা আক্তার বলেন, ‘ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেখি নাঈম সুপারি গাছ বেয়ে ঘরে ঢুকেছে। আমি ফোনে স্বজনদের জানাতে গেলে সে আমাকে বাধা দেয় ও ছুরি মেরে রক্তাক্ত করে। পরে আমার মেয়ে ও প্রতিবেশী এগিয়ে এলে তাদের ওপরও সে হামলা চালায়।’
প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের বড় ভাই মো. মিরাজ মিয়া বলেন, ছোট ভাই প্রবাসে থাকায় ফাঁকা বাড়ির সুযোগে নাঈম দিনদুপুরে চুরি করতে ঢোকেন। তার হামলায় আমাদের পরিবারের সদস্যসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনায় জড়িত নাঈম ও তার বাবা রফিককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
source: Asia Post







