News

রাষ্ট্রপতির পদ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবহেলিত: মাসুদ কামাল

‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদটা হলো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে অবহেলিত একটা পদ। দেশের রাজনীতিতে এ পদের কোনো গুরুত্ব আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।’

বুধবার (১২ আগস্ট) বেসরকারি টেলিভিশনের এক টক শোতে এমন মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।

তিনি বলেন, ‘আগে (আওয়ামী আমলে) যিনি রাষ্ট্রপতি মাহাবুদ্দিন চুপ্পু ছিলেন, তিনি শেখ হাসিনাকে আগে পায়ে হাত দিয়ে কদমচি করতে পারতেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সেটাও হারাইছেন। তাহলে প্রমাণিত সত্য এখানে স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই শুধু আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হয়।’

তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, ‘এ পদের ক্ষমতাও নাই। এটা একধরনের বন্দি জীবনযাপন বলে মনে করি। রাষ্ট্রপ্রতি পদটি পাওয়ার জন্য অনেকের মধ্যে একধরনের আকুতি থাকে। তারা মনে করেন এর মাধ্যমে সম্মান পাবেন। সারা জীবন হয়তো পর্যাপ্ত সম্মান পাননি, তাই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে এই চূড়ান্ত সম্মানটুকু পেতে চান।’

মাসুদ কামাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার আগে বিষয়টি নিয়ে কেউ জানত? দলে বা জনসমক্ষে কোনো আলোচনা হয়েছে? কিংবা যোগ্যতার মূল্যায়নও হয়নি। অথচ নাম ঘোষণার পরপরই দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, এমপি ও মন্ত্রীরা বলতে শুরু করলেন, বাহ, প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা কত দূরদর্শী চিন্তা। কারণটা হলো সেখানে এমনই গণতন্ত্র যে এটা ভালো হয়নি, এটা বলারই সাহস কারও হয়নি। কারণ বললে যদি তাকেই বাদ দিয়ে দেয় চাকরি থেকে? বর্তমানেও একই ঘটনা ঘটছে।’

অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে “উদ্ভট গণতন্ত্র” বিরাজ করে, সব দলেই করে। আওয়ামী লীগে করত, জাতীয় পার্টিতে তো করতই। জাতীয় পার্টিতে সাংগঠনিকভাবে বলা আছে যে চেয়ারম্যান চাইলে যে কাউকে বের করে দিতে পারে। একই চর্চা অন্য বড় দলগুলোতেও পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেখানে স্থায়ী কমিটির দীর্ঘ আলোচনা শেষেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক দায়িত্ব দেওয়া হয় শীর্ষ নেতাকে (প্রধানমন্ত্রীকে)।’

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, ‘ক্ষমতাসীন বা বিরোধী—সব দলেই একক সিদ্ধান্তের চর্চা চলে। কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে আলোচনা বা যোগ্যতার মূল্যায়ন না হয়ে, চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয় দলের প্রধানকে।’

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বাস্তবতা নিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম চূড়ান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে বাজারে নানা গুঞ্জন ও নাম প্রকাশ পেলেও মূল সিদ্ধান্ত একমাত্র শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই বন্দি থাকে। এটিই আমাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের বাস্তবতা।’

source: Asia Post

Back to top button