মালয়েশিয়ায় মাসের পর মাস বেতনহীন ১২৬ বাংলাদেশি

টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না মালয়েশিয়ার পাহাং অঙ্গরাজ্যের প্লাইউড প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন ১২৬ জন। এ ছাড়াও ভুক্তভোগী শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের নাগরিকরা।
তারা সবাই মেনটাকাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন. বিএইচডি. কারাখানায় কর্মরত। দীর্ঘদিন বেতনহীন পরিস্থিতির কারণে প্রবাসে থাকা শ্রমিকেরা দৈনন্দিন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দেশে তাদের পরিবারগুলো ব্যাংক ঋণ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ওই কারখানার তৈরি পণ্য যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে রপ্তানি হলেও শ্রমিকদের সঙ্গে চরম অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। চুক্তিতে দৈনিক ৮ ঘণ্টা শিফটের কথা উল্লেখ থাকলেও মাত্র ৬৫ রিঙ্গিত মজুরির বিনিময়ে তাদের দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হচ্ছে। এমনকি নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি থেকেও বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।
ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছে, বার্ষিক ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় প্রত্যেক শ্রমিককে ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত হিসেবে দিতে বলা হচ্ছে। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, মালয়েশিয়ায় তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্যই এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। তারা বিষয়টি কুয়ালামাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালয়েশিয়া শ্রম বিভাগে জানিয়েছেন।
তবে তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি বলে দাবি করেছেন শ্রমিকরা। ফলে কোন সুরাহা না পেয়ে হতাশা হয়ে পড়ছেন তারা।
বাংলাদেশি শ্রমিকদের এক মুখপাত্র বলেন, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসার জন্য প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ ব্যাংক ঋণ, জমি বন্ধক বা আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করা টাকার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। আমাদের আত্মীয়রাও পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, আমরা এখানে যেমন সংকটে আছি, আমাদের পরিবারের সদস্যরাও দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন। আমরা আশা করি, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে। কোম্পানি শ্রমিকদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। এটা স্পষ্টতই চাকরির চুক্তির শর্তাবলীর লঙ্ঘন।
এদিকে কোম্পানির এক মুখপাত্র বেতন পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিছু সমস্যার কারণে কর্মীদের বেতন দিতে দেরি হয়েছে। ইতোমধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
মুখপাত্র বলেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করার কোনো সিদ্ধান্ত কোম্পানির নেই। যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া পরিশোধের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
তবে কোম্পানির দেওয়া পরিশোধ পরিকল্পনা মেনে নিতে রাজি নন শ্রমিকেরা। ফলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন মুখপাত্র। তার মতে, শ্রমিকেরা ‘আক্রমণাত্মক’ আচরণ করছেন।
কোম্পানির আরও দাবি, শ্রমিকদের আর্থিক দাবির পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই শ্রমিকেরা তাদের অন্যান্য অভিযোগগুলোও অতিরঞ্জিত করছেন বলে দাবি করেন মুখপাত্র।
source: Asia Post







