News

ট্রাম্পের নতুন চিফ অব স্টাফ কট্টরপন্থি স্টিফেন মিলার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউজের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। মিলার বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আগামীকাল সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে মিলারের এ নিয়োগ কার্যকর হবে। এ নিয়োগকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা স্বাগত জানালেও ডেমোক্র্যাটরা মিলারের কট্টরপন্থি অবস্থানের কারণে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত ও নজরদারির মুখে পড়তে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের নীতি বাস্তবায়নে আরও বেশি নির্ভরশীল হতে পারেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্প্রসারণের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নেওয়া মিলারকে এ পদে বসানোকে তাই প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তনের বদলে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মিলারকে নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও তিনি নিজের নীতি থেকে সরে আসছেন না, বরং বিশ্বস্ত সহযোগীদের আরও ক্ষমতাশালী করছেন।

আরো পড়ুন

অভিবাসন নীতির প্রধান রূপকার

৪১ বছর বয়সী মিলার ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদ— দুই সময়েই প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকা হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তার একজন। ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে পদমর্যাদার বাইরেও অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে তার ব্যাপক প্রভাব ছিল।

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় মিলারের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন তিনি। এ লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান জোরদার হয়। এতে অপরাধের রেকর্ড নেই, এমনকি কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন— এমন ব্যক্তিরাও গ্রেপ্তারের শিকার হন।

তবে এ নীতি নিয়ে মার্কিন জনমত ইতিবাচক নয়। রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে মাত্র ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে ৫৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি ও সরকারি সংস্কারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন, মিলারের অভিবাসন নীতি নিয়ে তদন্ত করবে তার দল।

ফেডারেল প্রশাসনের কাঠামো পুনর্গঠন, ২০২৫ সালে হাজার হাজার সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপেও মিলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

পররাষ্ট্রনীতিতেও কঠোর অবস্থান

পররাষ্ট্রনীতিতে মিলার ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপগুলোর সমর্থক। ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের সন্দেহে নৌযানে মার্কিন হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা, তেহরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞারও সমর্থক ছিলেন। তবে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতির পরও তার অবস্থান অপরিবর্তিত আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

নতুন নিয়োগের সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস মিলারকে ‘বেপরোয়া উগ্রপন্থি’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তার নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এদিকে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া সুসি ওয়াইলস ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন। ট্রাম্পের প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়াইলস প্রশাসনের বিশৃঙ্খল কার্যক্রমে তুলনামূলক শৃঙ্খলা এনেছিলেন বলে মনে করা হয়। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশলের সূচনা হতে যাচ্ছে।

source: Rajneete

Back to top button